সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পাখি মানব সমাজের ঘনিষ্ঠ \ প্রকৃতি প্রেমী \ দেশে আসছে অতিথি পাখি \ পাখি নিধন বন্ধ হোক \ ব্যাঙ, কুচে হারিয়ে যাচ্ছে সকল ধর্মের মূল কথা মানবসেবা মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জেলা পর্যায়ের ডায়ালগ সভায় -জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন প্রস্তুতি সভা কানাডাকে উড়িয়ে শীর্ষে ক্রোয়েশিয়া বেলজিয়ামকে স্তব্ধ করে মরক্কোর দুর্দান্ত জয় যুব সমাজকে মাদক ও জঙ্গীবাদ থেকে দূরে রাখতে হবে -পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ব্যাংকিং খাতের সবশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইনজীবী সহকারীরা বিচারঙ্গনের প্রাণ ঃ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কবি শেখ মফিজুর রহমান কোস্টারিকার সঙ্গে পারলো না জাপান রেকর্ড গড়েই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দিলো মেসি

পদ্মাসেতুতে রেল চলতে অপেক্ষা আরো ছয় মাস

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২

এফএনএস: সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলÑ চলতি বছরের জুনের মধ্যে পদ্মাসেতুর সড়ক পথের সঙ্গে সঙ্গে রেলপথে মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার অংশ আগে চালু করা হবে। কিন্তু পদ্মাসেতুর ওপর রেলপথ তৈরির নির্দিষ্ট অংশে গ্যাস লাইন স্থাপনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের সঙ্গে রেললাইনের কাজ শেষ করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের মধ্যেই সেতু বিভাগ কাজের অনুমতি দেবে। এরপরই শুরু করে লাইন বসানোর কাজ। যে কারণে পদ্মাসেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হলেও রেল চলাচলে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও ছয় মাস। এ প্রসঙ্গে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘পদ্মাসেতুর নিচতলা দিয়ে গ্যাস লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। যার কাজ এখনও শেষ হয়নি। অন্যদিকে সেতু বিভাগ কাজ শুরুর অনুমতি দেয়নি। যে কারণে আমরা লাইন বসানোর কাজ শুরু করতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আগামী মাসে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষকে সেতুর নিচতলা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে হয়ত বুঝে পাবো। এরপর আমরা দেখব সেতুর সড়ক অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে কম্পনের সৃষ্টি হয় কীনা, আর কম্পন হলে তাতে রেল লাইন বসাতে অসুবিধা হয় কীনা। যদি অসুবিধা হয় তাহলে সেতু বিভাগকে যানবাহনের গতি কমিয়ে চলাচল করতে ব্যবস্থা নিতে সেতু বিভাগকে চিঠি পাঠানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে ছয় মাস সময় লাগবে। এরপর নতুন বছরের জানুয়ারিতে পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচল উদ্বোধন করা যাবে আশা করি।’ কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।’ মোট প্রকল্পটি তিন ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উলে­খ করে বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ভাঙা থেকে মাওয়া পর্যন্ত অংশ শেষ করা হবে। এই অংশ চালুর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল শুরু করবে। এরপর ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ভাগে বাস্তবায়ন করা হবে। এ অংশের অগ্রগতি ৪০ শতাংশ। বড় ধরনের কোনো বিপদ না হলে আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল চলাচল করতে পারবে। এরপর ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশের কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালে।’ এই পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার কোটি মানুষকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করবে। ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর উদ্বোধনের পরপরই দাবি ওঠে পদ্মার বুকে সেতু নির্মাণের। তবে প্রমত্তা পদ্মাকে বাগে এনে এর বুকে ইস্পাত-কংক্রিটের কাঠামো নির্মাণ সহজ ছিল না। সেই প্রকৌশল দিক বাদ দিলেও পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়েও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা। ১৯৯৮-৯৯ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ২০০১ সালের ১২ জুলাই প্রথম পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্ব চার দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি সেতু প্রকল্পের। ওয়ান-ইলেভেনখ্যাত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আমলে অবশ্য সেতুটির প্রথম প্রকল্প একনেকে পাস করা হয়। ২০০৯ সালে সেতুর নকশা প্রণয়নের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তাব। প্রথম দফায় সংসদে সেতুর ব্যয় সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। তবে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১২ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পে আবার ফেরতও আসে বিশ্বব্যাংক। তবে ২০১৩ সালের ৪ মে বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের ১২ জুলাই প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এরপর দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের মূল পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর স্প্যানে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো শুরু হয়। সড়কপথের জন্য স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর সবশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যানে পূর্ণ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট পদ্মা সেতুতে সবশেষ সড়ক স্ল্যাব স্থাপনের পর মূল সেতুতে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয় ১০ নভেম্বর। ২০২২ সালের ১৭ মে পদ্মা সেতুতে যানচলাচলের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ‘পদ্মা সেতু’ নামকরণ করে সেতু বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় ২৯ মে। শেখ হাসিনার হাত ধরে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের যে সাহস দেখিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই শেখ হাসিনার হাতে উদ্বোধনের মাধ্যমেই আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ পরিচয়কে বিশ্বের বুকে তুলে ধরার এক চক্র পূরণ হয় ২৫ জুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com