বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন

অবহেলিত সুবিধা বঞ্চিত জনপদের আরেক নাম পদ্মপুকুর অঞ্চল

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

শামীম হোসেন পদ্মপুকুর শ্যামনগর থেকেঃ শ্যামনগর উপজেলা পদ্মপুকুর ইউনিয়ন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের একই সাথে মিলেমিশে বসবাস করে। দেশে যখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে ঠিক সেইসময় আমাবস্যা কালো অন্ধকার ডুবে আছে এই পদ্মপুকুর ইউনিয়ন বাসী। সুন্দরবন কোলঘেঁষে দীপ ইউনিয়ন ৪৪ বর্গ কিলোমিটার ২৮ কিলোমিটার ওয়াবদার ভেড়ীবাঁধ, এবং ৩৬ টি মসজিদ, ১০ টি মন্দির আছে অত্র ইউনিয়নে। সরকারি প্রাইমারি স্কুল আছে ১৮ টি। দাখিল মাদ্রাসা ২ টি। ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা ১ টা। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩ টা ১৫ টি গ্রাম এ ইউনিয়ন এই ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে। অত্র ইউনিয়নে নেই কোন সরকারি হাসপাতাল নেই প্রাইভেট ক্লিনিক। তবে ৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে সেটাও ঠিক মতন চলে না। অত্র ইউনিয়নে পাখিমারা খেয়াঘাট থেকে প্রধান যে রাস্তাটি চৌদ্দরশি ব্রীজ পর্যন্ত অর্থাৎ গাবুরা ইউনিয়ন থেকে পদ্মপুকুর ব্রিজ পার হয়ে আসতে হয়। চৌদ্দরশি ব্রিজ দিয়ে পাখিমারা খেয়াঘাট পার হয়ে উপজেলা শ্যামনগর সাতক্ষীরা বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যায়।এলাকার মানুষেরা স্কুল-কলেজ বাজার ঘাট,ব্যবসা বাণিজ্য, উপজেলা,জেলা শহরে যাতয়াতের একমাত্র রাস্তা এটি।পদ্মপুকুরের প্রধান রাস্তার চরম দুরাবস্থা ! চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ভোগান্তিতে জনসাধারণ। দেখার যেন কেউ নেই।পদ্মপুকুর ইউনিয়নের প্রধান রাস্তার চরম দুরাবস্থা দীর্ঘ দিনের ! সীমাহীন ভোগান্তিতে হাজার হাজার জনসাধারণ। বাংলাদেশ জনপদ সড়ক বিভাগ,ও এলজিইডি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। পদ্মপুকুর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে গাবুরা ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটারের এই রাস্তাটি এখন প্রায় সমভূমির ন্যায়। ঘুর্নিঝড় আইলায় ডাবল ইটের এই রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আজও রাস্তাটির পুনঃ নির্মাণ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাঁদা পানির সংমিশ্রণ ও সকল প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা, হাট বাজারে হাজারো এলাকাবাসীর চলাচল প্রধান রাস্তা এটি। এক দিকে যেমন জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি সংস্কারে নেই কোন ভূমিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ৪ কিলোমিটার ডবল ইটের সলিং কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু রাস্তার দুই সাইড দিয়ে মাটি দেওয়া শেষ দুই এক জায়গায় বালু ফেলে রাখছে। ঠিকাদারের গাফিলতিতে চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তাটি। এর প্রধান রাস্তাটি এভাবে পড়ে আছে দীর্ঘ দুই থেকে তিন মাস ভোগান্তিতে পড়েছে অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ এবং ব্যবসায়ীরা। জনপদ সড়ক বিভাগে কাজের গাফিলতাই মেন রোড হাইওয়ে রাস্তা কাজটি দ্রুত এগোচ্ছে না। এহেনো পরিস্থিতিতে জরুরী ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে সরকারি সড়ক জনপথ বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সচেতন এলাকাবাসী। আইলার পার থেকে এই ইউনিয়নে বিভিন্ন রাস্তা ঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এভাবে পড়ে আছে দেখার কেউ নাই। আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা বর্ষার মৌসুমে এই ইউনিয়নে মিডেল পয়েন্ট বাইনতলা গ্রাম কিছুদিন আগে আমরা লক্ষ্য করছি একজন মায়ের প্রসব বেদনা উঠছে ঠিক তখনই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য হেলাই করে পায়ে হেঁটে ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাখিমারা খেয়াঘাট নিয়ে আসে। এখানে আসার পরে কোন টলোয়ার বা নৌকা নাই। ওই মা তখন যন্ত্রণায় ছটফট করতে ছিলো। তখন স্থানীয়রা যোগাযোগ করে একটা নৌকা পার করে তারপরে নওয়াবেকী থেকে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করে। বাংলাদেশের যখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে ঠিক সেইসময় অত্র ইউনিয়নের ১০ বছরে কোথাও একফোঁটা পিচের রাস্তা বাজেট হয় নাই। পাখিমারা থেকে গড়কুমারপুর বাজারে প্রায় ৪ চার কিলোমিটার রাস্তা সিঙ্গেল ইটের সলিং করা আছে দীর্ঘদিন এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে আছে ইট গাড়ি চলাচল করার কোনো সুযোগ নেই পায়ে হেঁটে কোনরকম মানুষ চলাচল করে। এ রাস্তা দিয়ে আশাশুনি এবং সাতক্ষীরায় যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি যাতে দ্রুত সংস্কার হয় জোর দাবি জানিয়েছেন অত্র ইউনিয়নের মানুষ।পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ কিছুদিন পর থেকে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হতে হবে। কামালকাটি, ঝাপা পূর্ব পাতাখালি, পশ্চিম পাতাখালি, চাউলখোল,খুটিকাটা, বিভিন্ন পয়েন্টে বেরিবাধ ভয়াবহ অবস্থা যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় হইলে রাস্তা ভেঙে লোকালয় পানি প্রবেশ করবে। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন একটা দ্বীপ ইউনিয়ন চারিদিকে শুধু লোনা পানি আর পানি এখানে মৎস্য চিংড়ি ছাড়া আর কিছু চাষ যায় না। পদ্মপুকুর ইউনিয়নের মানুষের একটাই আয়ের উৎস মৎস্য চাষ। এই এলাকার মানুষেরা বর্ষার মৌসুমে ও ঘূর্ণিঝড় সময় আতঙ্কিত থাকে।তাই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে আকুল আবেদন এই ইউনিয়নে বেড়িবাঁধগুলো দূরত্ব টেকসই বেড়িবাঁধ করার জন্য জোর দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ঝাপা, পশ্চিম পাতাখালি, গড়কুমারপুর, পদ্মপুকুর, বাইনতলা, বিশুদ্ধ খাবার পানির অসুবিধা এই গ্রামের গুলোই খাওয়ার পানি খুবই অভাব প্রতিদিন দুই থেকে তিন কিলোমিটার পেয়ে হেঁটে খাবার পানি আনতে হয়।পদ্মপুকুরের প্রাণকেন্দ্র পাখিমারা খেয়াঘাট অত্র গাবুরা,পদ্মপুকুর,ইউনিয়নের মানুষেরা খেয়া ঘাট পার হয়ে উপজেলা জেলায় যেতে হয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় নওয়াবেকি বাজারে বাজার করতে আসে হয়।কপোতাক্ষ নদী পারাপার হওয়ার জন্য হয়রানি হতে হয় মাঝিদের কাছে। তাদের নেই কোনো নিয়মনীতি তাদের ইচ্ছা মত মানুষের পারাপার করে। নওয়াবেকী খেয়াঘাটে ঘাট ডাকা তাদের ওখানেও নেই কোন সিটিজেন বোর্ড তাদের ইচ্ছামত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। ইতিমধ্যে আমরা দেখছি পাখিমারা খেয়াঘাট নওয়াবেকী সংলগ্নে ফেরি পারাপার করার জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে।নদীর দুই পাড়ে মজবুত করে পল্টন তৈরি হচ্ছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে আকুল আবেদন যাতে দ্রুত ফেরি চলে আসে। অত্র দুটি উনিয়নের মানুষের একটাই দাবি এখানে একটা ব্রিজ হলে তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য চলাচলের অনেক সুবিধা হবে। যেভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বেড়ে চলেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে পদ্মপুকুরে সংলগ্ন নওয়াবেকী ব্রিজ হলে তাহলে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে উন্নয়নের দিক থেকে মৎস্য চাষের দিক থেকে। দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কাছে আকুল আবেদন এই দুইটা ইউনিয়নে প্রায় লক্ষ মানুষের চলাচলের সুবিধা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com