মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নলতা শরীফের ৬০ তম বার্ষিক ওরছ শরীফ

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিশিষ্ট দার্শনিক, সাহিত্যিক, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সুফী-সাধক, পীরে কামেল সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব গওছে জামান আরেফ বিল্লাহ হজরত শাহ্ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) এঁর ৬০ তম বার্ষিক ৩দিন ব্যাপী ওরছ শরীফ গতকাল ১১ ফেব্রুয়ারী রবিবার বাদ ফজর থেকে মিলাদ শরীফ ও আলোচানা শুরু হয়ে সকাল ৯ টায় আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং মিশনের সভাপতি সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলহাজ্জ অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক’র সভাপতিতে নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্জ মাওলালা মো. আবু সাঈদ আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে মানবজাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং ইহকালে শান্তি ও পরকালের মাগফিরাত এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। আখেরী মোনাজাতের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন, শানপুকুর জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আব্দুল হাকিম। মিলাদ শরীফ ও ফাতেহা পাঠ করেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রঃ) ইসলামিক সেন্টারের প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওঃ মুফতি আশিকুর রহমান। আলোচনা করেন, খানবাহাদুর আহ্্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহা পরিচালক, আলহাজ্জ এ এফ এম এনামুল হক, আবু তৈয়ব মোঃ মাহবুবে খোদা, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ ড. কাজী আলী আজম, সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ ড. আবদুল মজিদ প্রমূখ। গজল পরিবেশন করেন, মো. মানছুরুর রহমান, মো. ফিরোজ আলম, মো. মাসুম বিল্লাহ, মো. আবতাব হোসেন বাচ্চু, মো. আনিছুর রহমান। ভক্তের পত্র থেকে পাঠ করেন, মিশনের সহ-সভাপতি আলহাজ্জ মোঃ সাইদুর রহমান। কেয়াম পরিবেশন করেন, মোঃ শাহীন আলম। এদিকে আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে নলতা শরীফ এলাকা ধর্মীয় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দু’হাত তুলে মহান আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। এ সময় আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখখরিত করে মহামহিম ও দয়াময় আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসুল্লিরা আকুতি জানান। এ সময় কারো দুই চোখ ছিল মুদিত, কারো দৃষ্টি ছিল সুদূরে প্রসারিত। আর থরথর কম্পমান দুই ঠোঁটে মৃদুস্বরে উচ্চারিত হয়েছে আমিন আমিন ধ্বনি। আল্লাহুমা আমিন ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে নলতা শরীফ। জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তির জন্য, পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহভিক্ষা করছিলেন তারা। মোনাজাতে নলতা শরীফে লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। ফজরের নামাজের পরই নলতা শরীফসহ আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করে। আগে যাওয়ার জন্য মুসল্লিরা তাড়াহুড়ো করতে শুরু করে। ফলে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। উক্ত ৩দিন ব্যাপী ওরছ শরীফে আগতদের মধ্যে দেখেছি আনন্দ, উৎসাহ, উদ্দীপনা। ওরছ শরীফের সুস্বাদু তাবারক খাবার পর তাদের চোখে মুখে পরিতৃপ্তির ছাপ। কোন একজন মানুষও যেন তাবারক না খেয়ে যায়, সবাই যেন এক লোকমা তাবারক খেয়ে যেতে পারে, কোনরকম যেন তাদের অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারে সেই ব্যবস্থা করে মিশন কর্তৃপক্ষ। আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে কোথাও একটু টান বা গরমিল দেখা যায় নাই। ৩দিন এভাবেই খানাপিনা চলেছে বিরামহীন। এই মহা নিয়ামত ও বরকতপূর্ণ তাবারক খেয়ে যে, কত মানুষের জটিল ও কঠিন অসুখ-বিসুখ, রোগ-শোক, জরা-ব্যাধি বালা-মসিবত, বদজীন-ভূতের তাছির থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায়ও অনেকে এই তাবারুক খেয়েছেন বলেও জানা গেছে। ৩দিন ব্যাপী এই পবিত্র ওরছ শরীফ মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন, মিশনের কর্মকর্তা ও নলতা আহ্ছানিয়া মিশন রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ। আখেরি মোনাজাত শেষে বেলা ১১ টা থেকে নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com