রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:২৭ অপরাহ্ন

ইছামতির ভাঙ্গন থামছে না : হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জনপদের টেকসই মেগা প্রকল্প গ্রহনই শেষ কথা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

দৃষ্টিপাত রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশ ভারত বিভক্ত করন ইছামতি নদীর ভাঙ্গন থেমে নেই। নিরবে এবং সরবে প্রতিনিয়ত ভেঙ্গেই চলেছে খরস্রোত এই নদী। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ভাঙ্গন কবলিত থাকায় পরিবর্তন এবং পবিরর্ধন হচ্ছে সীমান্ত পারের গ্রামগুলো বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জনজীবন প্রতিমুহুর্তে এক ধরনের অস্থিরতায় ভুগছে। বাংলাদেশের ভূ-খন্ডে দিনে দিনে ইছামতির গর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইছামতির পাশাপাশি বালান্দী নদীর ভাঙ্গন ও থেমে নেই। উভয় নদীই দুই দেশকে বিভক্ত করে রেখেছে। একদা এই নদীতে পালতোলা নৌকা এবং বাণিজ্য সম্ভার পরিপূর্ণ করে জাহাজ চলাচল করতো। নদীর এইপার ভাঙ্গে ওপার গড়ে এইতো নদীর খেলা, ইছামতি এবং কালিন্দী নদীর ক্ষেত্রে এটাই যেন বাস্তবতা। একদা ইছমতির তীরে সবুজের সমারোহ, খেলার মাঠ, সরকারি খাদ্য গুদাম সহ বহুবিধ সমৃদ্ধতা ছিল, কিন্তু খরস্রোত ইছামতি ক্রমান্বয়ে ভক্ষন করেছে সবুজ বনায়ন, খেলার মাঠ, ফসলিী জমিজমা, সরকারি স্থাপনা বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। ইছামতির লবনাক্ত পানি বারবার ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আবারও ফাল দিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম গুলোতে প্রবেশ করে জনজীবনের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতির অবতরনা ঘটিয়ে কয়েক বছর পূর্বে দেবহাটা থানা ভবনে এক কিলোমিটারের মধ্যে সুশিলগতি এলাকার ভেড়িবাঁধে ভেঙ্গে লবনাক্ত পানি গ্রাম গুলোতে প্রবেশ করে। এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত্রে অতিক্রম করে। বারবার ভেড়িবাধ ভেঙ্গে ও ফাঁটল ধরলেও কার্যকর অর্থাৎ টেকসই ভেড়িবাধ নির্মানের বিষয়টি উপেক্ষিত। প্রতি বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন রোধে কাজ হলেও তা টেকসই হয় না, এক শ্রেনির দায়িত্বশীল দের অনিয়ম, দুর্নীতি অথবা অদক্ষতার কারনে ভেড়িবাঁধ নির্মানের কাঙ্খিত ফলাফল সুদুর পরাহত। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সীমান্ত সংলগ্ন নদীটির ভেড়িবাঁধে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওড়দাহ, দেবহাটা সীমান্তের কোমরপুর টাউনশ্রীপুর, ভাতশালা, উপজেলা সদর, সুশিলগাতি বসন্তপুর কালিগঞ্জ উপজেলার খানজিয়া সহ সীমান্ত পারের গ্রাম গুলো ভাঙ্গনের মুখে এবং ভাঙ্গন কবলিত। দেবহাটার কোমরপুর একদা সরকারি খাদ্য গুদাম অনেক আগেই ইামতি গর্বেব বিলীন হয়েছে, কোমরপুরের অতি প্রাচীন মসজিদ এবং বাগদাদী পীরের মাজার খ্যাত কবরস্থানটি হুমকির মুখে যেড কোন সময়ে ইছামতির বুকে বিলনি হতে পারে। ভাতশালা সীমান্তের ভেড়িবাঁধ হুমকিকে অতিক্রম করছে। ভাতশালা সীমান্তের ভেড়িবাধ ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এবং ফাটল এমন পর্যায়ে পৌচেছে যে ভাতশালা গ্রাম হুমকির মুখে। গ্রামটি সংকুচিত হয়ে আসছে। ইতিমধ্যে ভাতশালা গ্রামের উল্লেখযোগ্য ভু-খন্ড নদীতে মিশে একাকার হয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে গ্রামটি রক্ষা ভাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল সহ ঢসে নদীর সাথে একাকার হয়েছে। টাউনশ্রীপুর চরশ্রীপুরের বিভিন্ন অংশ অনেকেই আগেই ইছামতিতে মিশে ইসামতির অংশে পরিনত হয়েছে। উপজেলা সদরের থানা ভবনের দুরবর্তী অংশে ও ফাটর বিদ্যমান এমন পরিস্থিতির অবতরনা ঘটমান বিওপি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা নাংলা সীমান্ত ভাঙ্গনের দিক দিয়ে অনেক বেশী অগ্রগামী। এই ভেঁড়িবাঁধটি দীর্ঘ অংশ ভাঙ্গনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেছে দীর্ঘ বছর। সাম্প্রতিক সময়ে নাংলা ঘোনা পাড়া, ছুটিপুর রক্ষা বাঁধটি সংস্কারের মাধ্যমে ভাংগন রোধ করার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। কালিগঞ্জের খানজিয়া সীমান্ত পারের গ্রমাগুলোর জনজীবনে ভাংগন আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘ দিন যাবৎ খানজিয়া ভেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের মুখে। সীমান্ত পারের জনসাধারনের প্রত্যাশা ইছামতির ভাঙ্গন রোধ ও ভূখন্ড রক্ষায় টেকসই মেগা প্রকল্প গ্রহন অপরিহার্য। দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা রক্ষায় ইতিমধ্যে মেগা প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে যা উপকুলীয় জনপদ কে কার্যকর ভাবে রক্ষা করবে। গাবুরার জন সাধারনের মাঝে ভাঙ্গন আতঙ্ক নেই কারন মেগা প্রকল্পই তাদের কে নদী ভাংগন প্রাকৃতিক দূর্যোগ দুর্বিপক হতে রক্ষা করবে। অবিলম্বে ইছামতির ভাংগন রোধে মেগা প্রকল্প গ্রহনই শেষ কথা বর্তমান ভাঙ্গন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হারাতে থাকবে জনপদ। হারিয়ে যাবে ভূখন্ড। ইতিমধ্যে রাজনগর, নামক মৌজা অস্তিত্বহীন এই মৌজাটি ইছামতি নদীর তীব্র স্রোত আর ভাঙ্গনের মুখে হারিযে গেছে টেকসই ভেড়ি ভাঁধই ইছামতির ভাঙ্গন রক্ষা করতে পারে আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেগা প্রকল্প গ্রহন করবেন এমন প্রত্যাশা সীমান্ত পারের অধিবাসিদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com