সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
হারিয়ে যাচ্ছে ডাক বিভাগের ঐতিহ্য \ দেখা নেই চিঠি হাতে ডাক পিয়নের চিঠির পরিবর্তে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার \ কুরিয়ার সার্ভিস গুলোর সেবার মান নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই মিরাজের দৃঢ়তায় বুক কাঁপিয়ে জয় টাইগারদের বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাফ জয়ী সাবিনা খাতুন ও ডিফেন্ডার মাসুরা পারভীনকে সংবর্ধনা প্রদান দেশ বাঁচাতে নৌকায় ভোট দিন \ চট্টগ্রামের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বীর নিবাস পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সাতক্ষীরায় বকচরা এলজিইডির কাপেটিং রাস্তায় কাজের উদ্বোধন এমবাপে-জিরুদের গোলে শেষ আটে ফ্রান্স সাতক্ষীরায় কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগী দেখলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ ফারহাদ জামিল সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আধুনিক ও সময়োপযোগী যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহ করছে সরকার -প্রধানমন্ত্রী কলারোয়ায় সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠ

কালিগঞ্জের বসন্তপুরে নৌবন্দর চালু করণের লক্ষে পরিদর্শন করছেন অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

এসএম, আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্চু কালিগঞ্জ\ কালিগঞ্জের বসন্তপুরে নৌ বন্দর পুনরায় চালু করণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আধুনিক নৌবন্দর স্থাপনের নিমিত্তে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত আহবায়ক কমিটি। কমিটির আহবায়ক বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ ঢাকা এর অতিরিক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুরে অবস্থিত নৌ বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর পূর্বে পরিদর্শন টিমের সদস্যরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা খন্দকার রবিউল ইসলামের সাথে বসন্তপুরে নৌ বন্দর বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা, যৌতিকতা, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব বহন করতে পারে সেই বিষয় গুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সাথে কমিটির নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ খুলনার পশ্চিম ব-দ্বীপ শাখা যুগ্ম পরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন, যশোর নোয়াপাড়া নদীবন্দর বিআইডব্লিটিএ উপ-পরিচালক মোহাঃ মাসুদ পারভেজ, ঢাকা বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ (সার্ভে) হাইড্রোগ্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, ঢাকা বি.আই.ডব্লিউ.টি.এ নৌ-নিটা বিভাগ (বৈদেশিক পরিবহন) সহকারী পরিচালক মোঃ মামুনুর রশিদ, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গাজী আজিজুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান, সোহরোওয়াদী পার্ক কমিটির সদস্য সচিব এ্যাডঃ জাফরুল­াহ ইব্রাহিম, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, তথ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এসএম,আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্চু ও জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে বৃষ্টির মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং এলাকার নৌবন্দর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উলে­খ্য (বিলুপ্ত) বসন্তপুর পোর্ট ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ পর্যন্ত কালিন্দী, ইছামতি ও কাঁকশিয়ালীর ত্রি-মোহনায় নৌরুট চালুর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আবেদন করলে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অনুমোদন দিয়ে সরজমিনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী ইসামতি কালিন্দী ও কাকশিয়ালী তিন নদীর মোহনা বরাবর স্থাপিত বসন্তপুর রিভার ড্রাইভ ইকোপার্ক, এলাকায় (বিলুপ্তি) বসন্তপুর পোর্ট থেকে ভারতের হিঙ্গলগঞ্জ নৌপথে পণ্য আমদানী রপ্তানি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করেন। জানাগেছে, ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পূর্বে বসন্তপুর নৌবন্দর বিদ্যমান ছিল। সে সময় কাস্টম ও ইমিগ্রেশন বিভাগের কর্মকাÐ চলতো। ১৯৬৫ সালে যুদ্ধের পর নৌ রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও স্থানীয়রা এই নদী পথে হরহামেশা চলাফেরা করতো। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মানুষ ইনফরমালি চলাফেরা করতে কোন বাঁধার মুখোমুখি হতোনা। নৌ পথে উলে­খিত স্থান দিয়ে ঐতিহ্যবাহী নাজিমগঞ্জ বাজার ও ভারতের হিঙ্গলগঞ্জের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থা চালু ছিল। কিন্তুু স্বাধিনতার পর আইনানুগভাবে সিস্টেম পুনরায় চালু না থাকায় তা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, জাতির পিতার ভাই শেখ নাসের ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই স্থান দিয়ে নদী পথে ভারতে যাতাওয়াত করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষে সময় কালিগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাকবাংলায় মাস খানেক অবস্থানের পর বাড়িতে ফিরেছিলেন। বর্তমানে বসন্তপুর এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নৌরুট চলাকালীন শুল্ক বিভাগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে শুল্ক বিভাগের গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত রামজননী ভবন বিদ্যমান আছে। নিকটস্থ ভোমরা ল্যান্ড পোর্ট টি প্রস্তাবিত নৌরুট থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি এবং দেবহাটা উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পর্যটক চিকিৎসা, ভ্রমণ, বাণিজ্য, ইত্যাদির কারণে ভারতে গমনাগমন করেন। এছাড়া প্রস্তাবিত বসন্তপুর নৌরুট স্থাপিত হলে দূরবর্তী ভোমরা পোর্টে না যেয়ে সহজে সাশ্রয় ভাবে নৌরুট ব্যবহার করতে পারবেন। বসন্তপুর নৌরুট চালু হলে প্রবাহমান ইচ্ছামতী নদী পথে ভারতের বসিরহাট পোর্ট হতে বাংলাদেশের মংলা পোর্ট পর্যন্ত পণ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে। ফলে বসন্তপুরে নৌরুটে পর্যটকদের চলাচলের ব্যবস্থা হলে স্থানীয় বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে উন্নয়নমূখী ভ‚মিকা রাখবে। নৌপথে পণ্য আদান-প্রদান তুলনামূলক সাশ্রয়ী ফলে বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ মনে করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন জনপ্রতিনিধি নৌ বন্দর টি বাস্তবায়নে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com