সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০১:১১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মজুদদারির বিরুদ্ধে ডিসিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ওবায়দুল কাদের স্মৃতিভ্রংশ রোগে ভুগছেন সংবাদ সম্মেলনে রিজভী স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি সাগরদাঁড়ী ৩ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের কাজের উদ্বোধন গুনাকরকাটি দরবার শরীফে মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম নকশবন্দী মোজাদ্দেদী (রহঃ) এর ফাতেহা শরীফ শুরু আজ যুব স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয় কমিটি গঠন দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে উত্থাপিত বিলটি পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির আশাশুনির সুন্দরবনী দরবারে ৩৩ তম বার্ষিক উরস আজ পাইকাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত আশাশুনির গোবিন্দপুরে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

কৃষি উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ছোয়া

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০২৩

সাতক্ষীরার কৃষকরা লাভবান হচ্ছে কৃষি ব্যবস্থাপনায়
দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ বাংলাদেশ বরাবরই কৃষি প্রধান দেশ, আবহমানকাল যাবৎ এই দেশের মাটিতে সোনার ফসল ফলছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য বিশ্ব বাজারে রপ্তানীর মাধ্যমে দেশ বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে চলেছে। দেশের কৃষি ব্যবস্থা একদা সনাতন পদ্ধতি নির্ভর ছিল, যে কারনে উৎপাদনের গতি ছিল কিছুটা মন্থর, সময়ের ব্যবধানে বাস্তবতার নিরিখে বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় কৃষিকে স্পর্শ করেছে প্রযুক্তি, এবং উন্নত মানের অধিক ফলনশীল বীজ। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় এই জেলার কৃষকরাও সনাতন পদ্ধতির কৃষি উপকরন, যন্ত্রপাতি এবং বীজ সারের পরিবর্তে যন্ত্রচালিত, প্রযুক্তি নির্ভর উন্নতমানের কৃষি উপকরন ব্যবহার করছে সেই সাথে অধিক ফলনশীল, উৎপাদনে ব্যাপক ভিত্তিক সহায়ক বীজ সামগ্রী ব্যবহার করছে। দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন যেমন গতিশীলতাকে ছুইচে অনুরুপ ভাবে সাতক্ষীরার কৃষি উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা অনেক অনেক উঁচুতে পৌছেছে। দীর্ঘ সময় যাবৎ বছরের পর বছর সাতক্ষীরা জেলা শষ্য ভান্ডার হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে বর্তমান সময় এই জেলা কৃষি কর্মযজ্ঞের মহাক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতো। জেলার কৃষক শ্রেনি যেমন সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ হতে বেরিয়ে এসেছে অনুরুপ ভাবে প্রকৃতি নির্ভরতা থেকে গুটিয়ে নিয়েছে যে কারনে উৎপাদন আশানুরুপ হচ্ছে। উৎপাদন পরবর্তি কৃষি পণ্য ঘরে তুলতে বাজারজাত করনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির সুষম ও কার্যকর ব্যবহার কৃষককে কায়িক পরিশ্রম, সময়ক্ষেপন ও অতিরিক্ত ব্যয় হতে পরিত্রান দিয়েছে। এক সময়ে কৃষকরা জমি চাষ উপযুক্ত করনের জন্য গরু, মহিষের লাঙ্গন ব্যবহার করতেন, বাসুই দিয়ে জমি সমতল করতেন, বৃষ্টির পানিই নির্ভরতার প্রতিক হিসেবে মানতেন। কিন্তু বর্তমান সময় গুলোতে যন্ত্রচালিত লাঙ্গন ব্যবহারের মাধ্যমে জমিচাষ দিচ্ছে যা অতি অল্প সময়ে, কম খরচে সম্পন্ন হচ্ছে একই ভাবে যন্ত্রচালিত মই, সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ও পানির প্রয়োজনীয়তা মেটাচ্ছে। পূর্বে এক জমিতে এক অথবা দুই ফসলের চাষাবাদ করলেও প্রযুক্তি আর উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল বীজের কল্যানে একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিন, চারবার ফসল ফলাচ্ছে। ধান, গম, সরিষা, ভুট্টো বা পাট কেবল নয় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ও গতি ফিরেছে উৎপাদন কাঙ্খিত হতে অধিকতর কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌছেছে। কীটপতঙ্গ নিধনে ইতিপূর্বে কীটনাশকের ব্যবহার হতো যা পরিবেশ বান্ধব নয়, কিন্তু বর্তমান সময়ে পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি অবলম্বনে কীটনাশক ব্যবহারে কীট পতঙ্গ দমন করা হচ্ছে পাশাপাশি নানান ধরনের যন্ত্র পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে। সব ধরনের কৃষি পণ্য রোপন হতে ঘরে তুলতে প্রযুুক্তি নির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার অত্যন্ত সফল ভাবে ভোগ করছে কৃষকরা, জমি প্রস্তুত হতে বীজ বপন, গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ, শস্যকর্তন, শষ্য মাড়াই, শস্য ঝাড়াই সর্বত্র প্রযুক্তির অবাধ সমাহার, আর এ সকল কাজে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, রাইস ট্রান্সপ্লাস্টার, থ্রেসার, সেচ পাম্প প্রভৃতি। সাতক্ষীরার কৃষকদের এক সময়ের ধান মাড়াইয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল গরু, সারিবদ্ধভাবে গরুর দল ধানের বিচুলীর উপর দিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে হাঁটতে থাকতে, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত তার পর সকাল, দুপুরে মাড়াই শেষ হতো ধান শুকাতে মাড়াইয়েও ভোগান্তীর শেষ ছিল না, কিন্তু বর্তমান সময়ে সবই হাতের মুঠোয়। সাতক্ষীরার কৃষকরা অধিকতর উৎপাদন করে ও অনেকে ভাল নেই বারবার প্রাকৃতিক দূর্যোগ, কৃষি উপকরনের মূল্য বৃদ্ধি সহ নানান কারন, কৃষি দপ্তরকে অধিকতর এগিয়ে আসতে হবে, প্রনোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি ও উৎপাদনে গতিশীলতায় এগিয়ে আসতে হবে এবং তা দেশের স্বার্থে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com