বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন

চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারনা ঃ বেকায়দায় রোগীরা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪

দৃষ্টিপাত রিপোর্ট ॥ মানবদেহ স্বাভাবিক ভাবে কাজ না করার প্রতিশ্র“তিই হলো অসুস্থতা। জনসাধারন অসুস্থ হলেই তখন কেবল ডাক্তারে স্বরনাপন্ন হয়। যুগ যুগ ধরে রোগী আর চিকিৎসকের সম্পর্ক তাই অত্যন্ত নিবিড় ও কাছাকাছি। অতীতের যে কোন সময় অপেক্ষা বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক অনেক উচ্চতায় আর এ কারনে জনসাধারন দৃশ্যত সুচিকিৎসা পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এই মহা সময়েও একশ্রেনির রোগী সাধারন ও জনসাধারন চিকিৎসার নামে প্রতারনার শিকার হচ্ছে, আপনি চিকিৎসার কবলে পড়েছেন আর এ ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা প্রতারনা আর অপচিকিৎসার ক্ষেত্র বিস্তৃত করেছে এক শ্রেণির হাতুড়ে ডাক্তার, কবিরাজ এবং ফার্মেন্সী ব্যবসায়ীরা। কেবল গ্রামের সহজ সরল রোগীরাই যে প্রতারনার শিকার হচ্ছে তা নয় শহরের শিক্ষিত রোগী ও রোগীরা স্বজনরাও প্রতারনার জালে জড়িয়ে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে রোগের অধিকতর বিস্তৃত ঘটছে এবং আর্থিক ভাবেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ডিগ্রীধারী এমবিবিএস তথা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের রোগ সারানোর নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও এসকল হাতুড়ে, ডাক্তার ও কবিরাজরা তাদের ঔষুধ গ্রহন পরবর্তি অতি দ্রুতই রোগনিরাময়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে এখানেই শেষ নয় হাতুড়ে ও কবিরাজরা নানান ধরনের আকর্ষনীয় ও চটকদারী বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সহজ সরল মানুষদের কে আকৃষ্ট করছে। হাতুড়ে ডাক্তাররা রেজিষ্ট্রার্ড (এমবিবিএস) ডাক্তারের ন্যায় নিজস্ব প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন এবং সেইসাথে প্যাথলজি টেস্ট ও লিখছে। আইন ও বিধানুযায়ী হাতুড়ে এবং পল্লী চিকিৎসকের কোন অবস্থাতেই নামেরপূর্বে ডাক্তার লেখার বিধাননেই। লেখা যাবে পল্লী চিকিৎসক কিন্তু পল্লী চিকিৎসকদের অনেকেই এই আইন ও বিধিকে তোয়াক্কা করছে না। একজন পল্লী চিকিৎসক এ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, গুনগান, কার্যকারিতা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে কতটুকু জ্ঞান রাখেন কিন্তু বাস্তবতা হলো পল্লী চিকিৎসকরা হর হামেশা এ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত এ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কতটুকু প্রয়োজন ততোটুকু ঘটাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় এবং অধিকতর এ্যান্টিবায়েটিকের ব্যবহার ঘটালে আগামীতে মানবদেহে তার প্রয়োগ ঘটালেও কাজ হবে না কিন্তু কে শোনেকার কথা, এ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসক রাও পিছিয়ে নেই। কবিরাজি চিকিৎসার ব্যবস্থায় এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ নির্ভরশীল, আধুনিক বিজ্ঞানের এই সময় গুলোতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবাধ প্রবাহ, এবং উন্নয়ন যেখানে বিস্ময় সৃষ্টি করেছ সেখানে কবিরাজি চিকিৎসা কতটুকু নির্ভরতা আনায়ন করতে পারে। সব ধরনের রোগের চিকিৎসক কোন কোন কবিরাজ, আর এ সকল ভ্রাম্যমান কবিরাজরা বিভিন্ন হাটবাজারে নানান ধরনের যাদু, গল্প,নাচ গান,খেলাধুলার মাধ্যমে লোকসমাগম করে জ্বর হতে শুরু করে মহামারী এবং দুরারোগ্য রোগের ঔষধ বিক্রয় করছে। তাদের ঔষধ কতটুকু কার্যকর বা মানসম্মত সে বিষয়টি অধরা থেকে যাচ্ছে। গ্রামের হাটবাজারের পাশাপাশি শহরের হাটবাজার, অফিস আদালত এলাকা অর্থাৎ যে সকল এলাকাতে লোক সমাগমের উপর -স্মৃতি যে সকল এলাকাগুলোতে কোন কোন কবিরাজের উপস্থিতি সর্বঅধিক। এ সকল ঔষধ সেবনে অনেকে অধিকতর জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সাতক্ষীরা বাস্তবতা হাতুড়ে ও কবিরাজদের উপস্থিতি এবং তাদের চিুিকৎসা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌছেছে। যা জন স্বাস্থ্যের জন্য রিতিমত হগুমকির। সাতক্ষীরার ঔষধের দোকান গুলোতে (ফার্মেন্সী) কোন কোনটিতে রোগের নাম বলা মাত্রই ঔষধ বিক্রেতা ঔষধ দিচ্ছে। ফার্মেন্সির নীতিমালায় বলা হয়েছে রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ব্যতিত ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে বিধি অনুসরন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা জ্বর,ছর্দি, কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়া, মাথা ব্যথা সহ যে কোন ধরনের রোগের নাম বলা মাত্রই ফার্মেসীর গুলোর কেউ কেউ ওষুধ দিচ্ছে। সাতক্ষীরা শহরের অপেক্ষা উপজেলা পর্যায়েল ফার্মেন্সী গুলোতে এমন চিত্র অহরহ। কোন কোন ফার্মেন্সীতে কয়েক ধরনের ওষুধ (বড়ি, ট্যাবলেট, ক্যাপসুল) একত্রে করে ছোট ছোট কাগজে ও পলিথিনে মোড়ক করে রাখা হয়েছে। ঔষধপ্রশাসন আছে তবুওচলছে এমন অপচিকিৎসা ওনিয়ম না মানার বিক্রি। চিকিৎসার নামে প্রতারনা এবং অবাধে ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের বিকল্প নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com