বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

জন্মসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে চ্যালেঞ্জেরমূখে সরকার কোথাও মিলছে না জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রী

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪

জি এম শাহনেওয়াজ ঢাকা থেকে ॥ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে রাখা নিয়ে সংকটের মূখে পড়তে যাচ্ছে সরকার। হু হু করে বেড়ে যেতে পারে জনসংখ্যা। কারণ জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রীর মজুদ নেই সরকারের সংগ্রহে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কারসাজিতে দেশজুড়ে জননিয়ন্ত্রন পদ্ধতির সঙ্কটে অসহায় ও অস্বচ্ছল পরিবারগুলো বিপাকে। যদিও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি ওনার নজরে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিশ্চিত, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এই কাজটি বাস্তবায়ন করে থাকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। তবে ২০২৩ সাল থেকে জন্মনিরোধক সামগ্রীর মজুদ না থাকার মধ্যে চলেছ বিশ্ব স্বাস্থ্যসহ ১১টি দাতা সংস্থার বিনিয়োগকৃত সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচী। মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রায় প্রতিটি জায়গায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুদ শূন্যতা বিরাজ করছে। ফলে সরকারের এই সেবা খাতের অগ্রগতি হুমকির মুখে। সংশ্লিষ্টরদের তথ্যমতে, দেশজুড়ে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী কনডম, খাবার বড়ি, ইঞ্জেকশনসহ মা ও শিশু স্বাস্থ্য ঔষধ সামগ্রীর মজুদ তলানিতে ঠেকেছে। কোথাও মিলছে না জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রী। এর ফলে মধ্যবৃত্ত পরিবার থেকে অনগ্রসর বড় একটি জনগোষ্ঠী প্রত্যাশি সেবা বঞ্চিত। এই সঙ্কট দূরকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে আগামী আদম শুমারিতে জনসংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সংকটের বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কোথাও যাতে সংকট না হয়, সেজন্য দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্থানীয় পর্যায়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। গত আট মাস যাবৎ জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার ঔষধ সামগ্রীর মজুদ শূন্যতার বিষয় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার ঔষধ সামগ্রী যথাযথভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সরবরাহ করতে না পারায় অধিদপ্তরের মাঠ কর্মীদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর, যশোর ও ঢাকার মানিকগঞ্জসহ বেশকিছু এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রীর সরবরাহ করা কর্মীদের কাছে কোনো ইনজেকশন ও কনডম নেই। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রন খাবার বড়ির মজুদ ফুরিয়ে গেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী যথাযথভাবে বিতরণ করা না গেলে, এর প্রভাব হয়তো তাৎক্ষণিক বুঝা যায় না। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব যেমন-অনাকাংক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু এবং জনসংখ্যাও কাংক্ষিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। অর্থাৎ টিএফআর বৃদ্ধি পাবে। মজুদ সংকটের কথা স্বীকার করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ণ) আবদুস সালাম খান বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় স্টক আউট ও বেশ কিছু জায়গায় স্টক শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু পণ্য আমাদের হাতে এসেছে। সরবরাহ শুরু হলে সংকট কমতে শুরু করবে। তিনি বলেন, কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে পূণ: দরপত্র আহবান করা হবে। এছাড়া রেভিনিউ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সবমিলিয়ে আশাকরি দ্রুতই এ সংকটের সমাধান হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ( উপকরণ ও সরবরাহ) মতিউর রহমান বলেন, অধিদপ্তরের মজুদ সংকটের সমাধান খুব শিগগিরই সমাধান হবে। এরইমধ্যে মাঠপর্যায়ে মালামাল পৌছে গেছে। আশাকরি জুন মাসের মধ্যেই সংকট কেটে যাবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সমূহের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় খাবার বড়ি (তৃতীয় প্রজন্ম)। সারাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহীতার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ সক্ষম দম্পতি এ পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। অধিদপ্তরের সাপ¬াই চেইন এর তথ্যমতে প্রতিমাসে খাবার বড়ির চাহিদা ৬ মিলিয়ন সাইকেলের বেশি। খাবার বড়ি (তৃতীয় প্রজন্ম) এর বর্তমান মজুদ মাত্র ৬.৭ মিলিয়ন সাইকেল। বর্তমান যে মজুদ আছে, তা দিয়ে ১.৩ মাস চলবে। এরইমধ্যে ২৮৭টি উপজেলায় মজুদ শূন্য হয়েছে। এছাড়া ১২৭ উপজেলায় যেকোন সময় খাবার বড়ি (তৃতীয় প্রজন্ম) মজুদ শূন্য হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য মতে, যে কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মজুদ ৬ মাসের নীচে নামলেই বিক্ষিপ্তভাবে মজুদ শূন্যতা দেখা দেয়। যেমন কনডম ২৩ টি উপজেলা স্টোরে মজুদ শেষ, ৮৭ টি উপজেলা স্টোরে মজুদ শেষ পর্যায়ে। দেশের প্রায়ই সব পরিবার পরিকল্পনা স্টোরে (৪৯৫ উপজেলা) জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইনজেকশন নেই। প্রতিমাসে প্রায় ৯ লাখ ভায়াল এর উপরে ইনজেকশনের চাহিদা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর মজুদ ফুরিয়ে যাওয়া রহস্যজনক। স্বচ্ছতায় বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক সামগ্রীর সঙ্কট সামনে চলে এসেছে। এর জন্য যারা সরাসরি কাজ করেন তাদের গাফলতি আছে কি না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সরকারের অত্যন্ত সফল একটি কর্মসূচীকে বাধাগ্রস্থ করে দেশে ও বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি তলানিতে নেয়ার চক্রান্তে জড়িতদের খুঁজে উপযুক্ত শান্তি দেয়া জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com