বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ০২:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সাতক্ষীরার ঘরে ঘরে চোখ ওঠা রোগের প্রাদুর্ভাব \ আতঙ্ক নয় \ সাবধানতা ও সতর্কতা জরুরী দূর্গা উৎসব বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়েছে -খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন ইভিএমে আঙুলের ছাপ না মিললে ভোটদানের বিষয়ে আইনে সংশোধনী আসছে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা ভার্চুয়ালী অনুষ্ঠিত ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী অষ্টমীতে সাতক্ষীরার মন্ডপে মন্ডপে উপচে পড়া ভিড় \ আজ মহানবমী সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে অস্ত্র সহ আটক ১ সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছে -আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেবহাটায় উৎসবমূখর পরিবেশে চলছে দূর্গোৎসব

তামান্নার বাড়িতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা পৌঁছে দিলেন এমপি জগলুল হায়দার

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

এস এম জাকির হোসেন শ্যামনগর থেকেঃ অদম্য তামান্নার বাড়িতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভালোবাসা পৌঁছে দিতে ফুল, মিষ্টি ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে হাজির হলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার। তিনি জীবন সংগ্রামী মেধাবী তামান্নাকে মিষ্টিমুখ করান এবং পরিবারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানার জন্য দোয়া চান। জন্মগতভাবে দু’ হাত আর এক পা না থাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য যাকে ভর্তি করাতে পিতা রওশন আলীকে স্কুলে স্কুলে ঘুরতে হয়েছে; সেই তামান্না আক্তার নূরা এক পায়ে ভর করে চড়েছে সফলতার এভারেস্টে। এক পায়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষাসহ বিগত সকল পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে তামান্না। সোমবার ১৪ ফেব্র“য়ারি বিকাল ৩ টা ৩৩ মিনিটে তামান্নার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ভিডিও কল দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইসময় তামান্না কলটি রিসিভ করতে পারেনি। এরপর ৩টা ৩৬ মিনিটে তামান্নার একই নম্বরে এসএমএস লেখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছিলেন, ‘তুমি খুব সুন্দর দেখতে। আমি তোমাকে ফোন করেছিলাম। তোমার পড়াশোনা করতে যা দরকার আমি করবো। তোমার পরিবারে কে কে আছেন? তামান্না ওই এসএমএসের রিপ্লে না করায় তিন মিনিট পর ৩টা ৩৯ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আরেকটি এসএমএস দেন। তখন তিনি লেখেন, ‘তুমি নূর, মানে আল­াহ রাব্বুল আলামীন তোমাকে এক ঐশ্বরিক জ্যোতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।’ তামান্না অফলাইনে থাকায় পরের এসএমএসটিও দেখতে পায়নি। সর্বশেষ, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তামান্নার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোটবোন শেখ রেহানা। তখন তামান্না ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে ওঠেন,‘আমি লন্ডন থেকে শেখ রেহানা বলছি। আমি কি তামান্না নূরার সঙ্গে কথা বলছি।’ তখন আবেগে কেঁদে ফেলে তামান্না। কান্না থামাতে বলে শেখ রেহানা বলেন কাঁদে না। টানা ভালো রেজাল্ট করায় তোমাকে অভিনন্দন। তোমার সংগ্রামের কথা শুনেছি। তুমি খুব সাহসী। তুমি এগিয়ে যাও। আমরা দু’ বোন বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোমার সহযোগিতা করে যাবো। যারা সাহস রেখে চলে তারা কখনো হেরে যায় না।’ ওইসময় শেখ রেহানা জানান, তার বোন শেখ হাসিনার ফোন কলের বিষয়টি। এঘটনার পর বৃহস্পতিবার ১৭ ফেব্র“য়ারি অদম্য তামান্নার বাড়িতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা পৌঁছে দিতে হাজির হন জগলুল হায়দার এমপি। তিনি তামান্নার হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা উপহার দেন। তামান্না আক্তার নূরা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির সন্তান। বাবা রওশন আলী ঝিকরগাছার ছোট পোদাউলিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার গণিতের শিক্ষক। মা খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তিন ভাই বোনের মধ্যে তামান্না সবার বড়। ছোট বোন মুমতাহিনা রোশনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছোট ভাই মুহিবুল­া তাজ প্রথম শ্রেণিতে। তামান্নার আজকের এই পর্যায়ে উঠে আসার গল্পটি মসৃণ নয়। এ জন্য তাকে ডিঙোতে হয়েছে কষ্টের এক একটি সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি যেমন তামান্নার; ঠিক তেমনটাই তার বাবা মায়েরও। সেসব কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসজল হয়ে ওঠে তামান্নার পিতা রওশন আলীর চোখ। রওশন আলীর বর্তমান বাড়ি বাঁকড়ায় হলেও তিনি ছিলেন ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামে। ১৯৯৬ সালে বাঁকড়ার খাদিজা পারভীন শিল্পীর সাথে বিয়ে হয় রওশন আলীর। ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর সংসারে আসে তামান্না নূরা। জন্মগতভাবে দু’টি হাত ও একটি পা না থাকায় নানা গঞ্জনা সইতে হয়েছে এই দম্পত্তিকে। ২০১৩ সালে পিইসি পরীক্ষায় এক পায়ে লিখে জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়ে দেয় তামান্না। তারপর ২০১৬ সালে বাঁকড়া জে কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পায়। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৯ সালে এসএসসিতেও পায় জিপিএ-৫। তখন থেকে আলোচনায় আসে তামান্না নূরা। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে তামান্না। এখন তামান্নার চোখে শুধুই বড় হওয়ার স্বপ্ন। পড়তে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। হতে চায় বিসিএস ক্যাডার অথবা যুক্ত হতে চায় গবেষণার সাথে। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার আশ্বাসে সে স্বপ্ন ডানা মিলছে দূর দিগন্তে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com