রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল্য নির্ধারণে গড়িমসি কলারোয়ায় দুই পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে সাতক্ষীরা অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী প্রতাপনগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সাতক্ষীরায় জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উপলক্ষে আলোচনা সভা সিলেটে ত্রাণ দিলো সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীরা শিক্ষক উৎপল হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরা বাশিস সভা সাতক্ষীরায় আলম সাধু চালককে পিটিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দেবহাটায় পৃথক অভিযানে ফেনসিডিল সহ গ্রেফতার ৪ বৃষ্টি কমে বাড়তে পারে তাপমাত্রা

নারীকেই সব পারতে হবে কেন? \ ইয়াসমিন নাহার, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সাতক্ষীরা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২

নারী হলেই সব পারতে হবে এটাই যেন আদিকাল থেকে একটা ভুল ধারণা মানুষের মনের বদ্ধমূলে বিদ্ধ হয়ে আছে। প্রশ্ন আসতে পারে, কি পারতে হবে? সবকিছু সহ্য করতে পারতে হবে। এই সহ্য করার, ধৈর্য ধরার শক্তি অর্জন করতে হয় সেই ছোট্টবেলা থেকেই। নিজের ঘরেই শুনতে হয়- “মেয়ে মানুষের এতো রাগ থাকা ভালো না, একটু ধৈর্য ধরা শিখতে হয়”। আপন জনের কাছে এই ধরণের কথা একটা শিশু মনের আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দেয়। সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছেই শুধু মেয়ে হওয়ার কারণেই শুনতে হয় নানা কথা। এরপর মেয়ে সন্তান যদি দেখে শুধুমাত্র গৃহিণী হওয়ার কারণে তার মাকে শুনতে হচ্ছে- ‘তুমি কি বোঝ?’ আচ্ছা তখন সেই শিশুটির মনে কেমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে? এবার নারী দিবসে ভেবেছি ঘরে থাকা, তথাকথিত কিছু না করা নারীদের নিয়ে লিখবো। তার আগে প্রশ্ন করি, আচ্ছা আমাদের জীবনে সবচেয়ে না দেখা প্রয়োজনীয় উপাদান কোনটি? আমি জানি বিন্দুমাত্র না ভেবেই বলতে পারবেন- অক্সিজেন। ঠিক তেমনি আমাদের ঘরে থাকা মায়েরা আমাদের জীবনে অক্সিজেন, যাঁদের কাজ আপনি দেখতে পাবেন না কিন্তু অক্সিজেন ছাড়া যেমন বেঁচে থাকা সম্ভব না, ঠিক তেমনি এই মায়েরা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা সম্ভব না। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছেন এই মায়েরাই। দিন শেষে কর্মক্লান্ত পুরুষ বাসায় ফিরে কোন কারণে খাবার পেতে একটু দেরি হলেই বিরক্তিতে যে প্রশ্নটা ছুঁড়ে বসেন, তা হলো- সারাদিন কী করো? তাই তো বিরাট প্রশ্ন! অফিস করে না, মিটিং করে না, ফাইলের কাজ করে না, তাহলে করে কী? এটা বুঝতে হলে সকাল থেকে শুরু করতে হবে, সেই ফজরের নামাজের পর থেকে। সকালের নাস্তা তৈরি করা, বাচ্চাদের রেডি করে স্কুলে দেয়া, স্বামীকে টিফিন দিয়ে অফিসে পাঠানো। দুপুরের রান্না, বিকালের নাস্তা, রাতের খাবার, ঘর গুছানো, কাপড় ধোয়া, থালা বাসন পরিষ্কার রাখা- আরে বাবা, এ বউ নাকি বিনা পয়সার কাজের বুয়া? কবুল বলে কি এইসব কাজ করার দায়িত্ব আপনিই এসে পড়ে? না, নিজের ঘরের কাজ ভালোবেসে অবশ্যই করবে। নিজের হাতে রান্না করলে স্বামী সন্তান পছন্দ করে যখন, তখন অবশ্যই করবে। কিন্তু কোন স্বীকৃতি পাবে না, এটা কী ঠিক? স্বামী যখন স্বীকৃতি দেয় না, তখন সন্তানেরাও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। প্রয়াত বলিউড সুপারস্টার শ্রীদেবী তাঁর জীবনের শেষ দিকে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ মুভি দিয়ে রীতিমতো হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। যেখানে দেখানো হয়েছিলো মা ইংরেজি না জানায় বাবা যখন বিদ্রƒপ করে সন্তানও তখন বিদ্রƒপ করতে পিছপা হয় না। পরবর্তীতে মা ইংরেজি কোর্স করে ইংরেজি ভাষায় কথা বলে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, সুযোগ পেলে তিনিও কম না! শরীরে রক্তের প্রবাহ আমরা চোখে দেখতে পাই না কিন্তু রক্তের সঞ্চালন না থাকলে হৃদপিন্ড বন্ধ হয়ে জীবনই শেষ হয়ে যাবে। ঠিক তেমনি ঘরের গৃহিণীর কাজ এই প্রবাহমান রক্তের মতো নিরবধি সংসারের জন্য কাজ করে চলেছেন। দিনশেষে ‘রান্নাটা খুব ভালো হয়েছে’- এই কথাটুকু তাঁর সারাদিনের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। এটা বোঝা উচিৎ যারা সারাদিন ঘরের গন্ডিতে জীবন আবদ্ধ করে ফেলেছেন, তাঁদের একটু ফুলের শুভেচ্ছা, মাঝে মাঝে কাছে দূরে কোথাও সাধ্যের মধ্যে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া কতোটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে! মা হলেই যে শিশু সন্তানের সব দায়িত্ব তাঁর একার- এই ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। পরিবারের সবার সহায়তা একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে যেমন সহায়তা করে, ঠিক তেমনি একজন মা’কে প্রকৃত মা হয়ে উঠতে সাহায্য করে। নারী দিবসে কোন নারী কী পারলো, কর্মজীবনে কত দূর গেল সেটা নিয়ে লেখার সাথে সাথে যাঁদের জন্য আজ আমরা বেঁচে আছি, এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি তাঁদের নিয়েও লিখি। আমাদের কর্মজীবনের পেছনে যেসকল তথাকথিত কিছু না করা গৃহিণী নারীরা আছেন, তাঁদের কথা স্মরণ করি। তাঁদের প্রকৃত সম্মান দিই, স্বীকৃতি দিই। পৃথিবীর সব নারীদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা..

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com