সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পাখি মানব সমাজের ঘনিষ্ঠ \ প্রকৃতি প্রেমী \ দেশে আসছে অতিথি পাখি \ পাখি নিধন বন্ধ হোক \ ব্যাঙ, কুচে হারিয়ে যাচ্ছে সকল ধর্মের মূল কথা মানবসেবা মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জেলা পর্যায়ের ডায়ালগ সভায় -জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন প্রস্তুতি সভা কানাডাকে উড়িয়ে শীর্ষে ক্রোয়েশিয়া বেলজিয়ামকে স্তব্ধ করে মরক্কোর দুর্দান্ত জয় যুব সমাজকে মাদক ও জঙ্গীবাদ থেকে দূরে রাখতে হবে -পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ব্যাংকিং খাতের সবশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইনজীবী সহকারীরা বিচারঙ্গনের প্রাণ ঃ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কবি শেখ মফিজুর রহমান কোস্টারিকার সঙ্গে পারলো না জাপান রেকর্ড গড়েই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দিলো মেসি

বন্ধ হবে না পদ্মায় ফেরি ও স্প্রিডবোর্ট চলাচল \ লঞ্চ চলার বিষয়টি বিবেচনাধীন

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ মে, ২০২২

জি এম শাহনেওয়াজ ঢাকা থেকে \ স্বপ্নের পদ্মাসেতু চালুর পর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এবং মাদারিপুরের মাঝিরকান্দি রুটে ফেরি লঞ্চ কিংবা দ্রুতগতির যান স্প্রিডবোর্ড আগের মতই চলবে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এমনিই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। খবর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রের। সরেজমিন মুন্সীগঞ্জ ও মাদারিপুর পদ্মার দু’পাড়ে ঘূরে নানা মত পাওয়া গেছে। সেখানে পদ্মাসেতু চালু হলে মাওয়া-মাঝিরকান্দি রুট বন্ধ হবে কি না এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। বন্ধ হলে এসব রুটে চলাচল করা যানগুলোর ঠাঁই কোথায় হবে এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই মানুষের। এতো মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান হবে কি হবে না তা-ও আলোচনার বাইরে নয়। তবে এসব যানগুলো যাদের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়, – সেই নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ছিল এতোদিন নিরব। তবে বসে ছিলেন না তারা। পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন এ রুটটির ভবিষৎ কি হতে পারে তাতে। ভিতরে ভিতরে উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টায়-ও ছিলেন। ইতিমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু পদ্মা ব্রীজ উদ্বোধন করে খুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সরকার। চলছে সার-সংক্ষেপ নিয়ে আলোচনা। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিললেই সব গুঞ্জন থেমে যাবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে কবে চালু হচ্ছে পদ্মাসেতু। তবে জুনেই চালু হবে এটা অনেকটা নিশ্চিত। সেতুর উপর দিয়ে নির্ধারিত ওজনের যান চলাচল করবে। সমানতালে চলবে নদীপথ দিয়ে বিদ্যমান ফেরি, লঞ্চ ও স্প্রিডবোড। কোন ধরণের যানবাহন সেতুর উপর দিয়ে চলতে পারবে সেটি পদ্মাসেতুর টেকনিক্যাল কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার পর বোঝা যাবে। এদিকে, ফেরির বিদ্যমান ভাড়া বাড়ানোর চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সম্মুখে আনা হবে। তবে পদ্মাসেতুর টোলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেরি ভাড়া সমন্বয় করা হবে এটা নিশ্চিত। এ প্রসঙ্গে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগে নৌ-পথ নিয়ে মানুষ না ভাবলেও এখন ভাবছে। দিনে দিনে বরাদ্দ বাড়ছে। নির্বিঘেœ চলাচলের জন্য সুনাম রয়েছে নৌ-পথের। পদ্মাসেতু গর্বের ও অহংকারের সেতু হলেও বরিশালের মানুষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে তারা নৌপথেই চলতে স্বাচ্ছদ্য বোধ করবে। তাদের ভাষায় বললে বলতে, এতো আরামদায়ক জার্নি আর কোন পথে নেই। তাই পদ্মাসেতু হলেও চলবে মাওয়া টু মাঝিরকান্দি রুটে ফেরি ও স্প্রিডবোড। তবে লঞ্চ চলাচলের বিষয়টি সবসময় বিবেচনায় থাকবে। বিআইডব্লিউটিসির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পদ্মা ব্রিজ থেকে কাঠালবাড়ি এলাকার ঘাঁট সরিয়ে এনেছি। এখন মাওয়া থেকে মাঝেরকান্দিতে এসে থামছে ফেরি ও লঞ্চ ও স্প্রিডবোড। পদ্মাসেতু চালু হলে সবগুলো এখানে থাকবে না। কারণ বর্তমানে সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন ৯টি চলছে। কিছু ফেরি নগরবাড়ি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। মাওয়া-মাঝেরকান্দিতে ভারী যানগুলো পার হবে। পদ্মাসেতুর টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে। সেতু চালুর এক-দুই মাসের মধ্যে জানা যাবে কোন যানগুলো চলতে পারবে। আর সেতুর সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরি ভাড়া বাড়ানো হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে পদ্মাসেতুতে উঠলেই উচ্চহারে টোল দিতে হবে। আবার মাওয়া পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকার মানুষের ছোট যান-বাহন নিয়ে সেতুতে উঠতে চাইলে উল্টোপথে ঢাকার দিকে গিয়ে উড়াল সেতু ঘুরে পদ্মা ব্রীজ দিয়ে নদী পার হতে হবে। এতে সময় ও অর্থের দুটির অপচয় হবে। তাই নানাদিক বিবেচনা করে নৌমন্ত্রণালয় ফেরি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে কাঠারবাড়ি পয়েন্টে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ঘাঁট সরিয়ে মাঝিরকান্দিতে নিয়ে এসেছে। যাতে ফেরি ও কিংবা লঞ্চে কেউ পদ্মা পার হতে চাইলে অল্প সময়ে ওপারে পৌঁছাতে পারেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। কারণ সংস্থাটির লাভজনক ব্যবসায়ের মধ্যে একটি ফেরি। নানা সমীকরণ করে মাওয়া-মাঝিরকান্দি রুটে ফেরি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এদিকে, দেশের ছয়টি রুটের ফেরিতে সব ধরনের গাড়ি পারাপারের ভাড়া ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিসি নৌযানেও যাত্রীপ্রতি ভাড়া ৩৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। স¤প্রতি নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত কমিটি ভাড়া পর্যালোচনা করছে। জানা যায়, বর্তমানে ছয়টি রুটে ফেরিতে গাড়ি পারাপার করছে বিআইডব্লিউটিসি। রুটগুলো হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, আরিচা-কাজিরহাট, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার/মাঝিরকান্দি, চাঁদপুর-শরীয়তপুর, ভোলা-ল²ীপুর এবং লাহারহাট-ভেদুরিয়া। এছাড়া ঢাকা-বরিশাল-মোড়েলগঞ্জ, চট্টগ্রাম থেকে স›দ্বীপ, হাতিয়া, দৌলতখান ও বরিশাল এবং ঢাকা-কালীগঞ্জ রুটে চলে সংস্থাটির বেশকিছু যাত্রীবাহী নৌযান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com