সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
পাখি মানব সমাজের ঘনিষ্ঠ \ প্রকৃতি প্রেমী \ দেশে আসছে অতিথি পাখি \ পাখি নিধন বন্ধ হোক \ ব্যাঙ, কুচে হারিয়ে যাচ্ছে সকল ধর্মের মূল কথা মানবসেবা মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জেলা পর্যায়ের ডায়ালগ সভায় -জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মনিরুল ইসলাম সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন প্রস্তুতি সভা কানাডাকে উড়িয়ে শীর্ষে ক্রোয়েশিয়া বেলজিয়ামকে স্তব্ধ করে মরক্কোর দুর্দান্ত জয় যুব সমাজকে মাদক ও জঙ্গীবাদ থেকে দূরে রাখতে হবে -পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ব্যাংকিং খাতের সবশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইনজীবী সহকারীরা বিচারঙ্গনের প্রাণ ঃ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কবি শেখ মফিজুর রহমান কোস্টারিকার সঙ্গে পারলো না জাপান রেকর্ড গড়েই আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দিলো মেসি

বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে -টিআইবি

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

এফএনএস: প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও তাদের চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছে টিআইবি। এ অবস্থায় বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে দশ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহের পর বিশ্লেষণ করে গুণগত পদ্ধতিতে গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়। গবেষণার ফল থেকে দেখা যায়, বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার প্রাপ্তির প্রক্রিয়া যেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক সেখানে পরিকল্পনাহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি, কাঠামোগত জটিলতা, অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ, জবাবদিহি ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সামাজিক সচেতনতা ও সংবেদনশীলতার ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতিবাচক মনোভাবের কারণে বীরাঙ্গনারা এখনো প্রান্তিকীকরণের শিকার। বীরাঙ্গনাদের নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ও নারী বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক কাজ থাকলেও তা নারী বিষয়ক অন্য যেকোন কাজের তুলনায় অপ্রতুল। টিআইবির গবেষণায় দেখা যায়, গেজেটভুক্তির আবেদন হতে শুরু করে গেজেটভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ কতদিনে মধ্যে কার্যক্রম নিষ্পত্তি করতে হবে তার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা আইনে বা বিধিতে উলে­খ নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। এছাড়া, আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হতে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা থাকলেও ভাতা পেতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩-৬ মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ‘বীর নিবাস’-এর ঘরের জন্য আবেদন করার ছয় বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও ঘর না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবার, এই ঘর পাওয়ার জন্য নূন্যতম জমির মালিকানার শর্ত দরিদ্র ও ভ‚মিহীন বীরাঙ্গনাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। গবেষণায় আরও দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে বীরাঙ্গনাদের খুঁজে বের করার বা চিহ্নিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সংবেদনশীলতা রক্ষার স্বার্থে বীরাঙ্গনা হিসেবে শুধু যারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবেন তাদের গেজেটভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কাঠামো না থাকার কারণে গেজেটভুক্তির জন্য সরকারের এই আহŸান অনেকক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছায় না। ফলে এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৪৪৮ জন বীরাঙ্গনার মধ্যে ৪৩৩ জন জীবিত অবস্থায় নিজেদের পক্ষে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও ১৫ জন বীরাঙ্গনার মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রতিনিধি হয়ে নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। বীরাঙ্গনা বা মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত পদ নেই। উল্টোদিকে অধিকাংশ বীরাঙ্গনা শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘাটতি এবং বয়সের কারণে গেজেটভুক্তির জন্য নির্ধারিত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পাদন করতে জটিলতার সম্মুখীন হন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএস-এ তথ্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখন পর্যন্ত গেজেটভুক্ত মোট বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা যেখানে ৪৪৮ জন সেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএস-এ এন্ট্রি রয়েছেন ৪০২ জন। এ ছাড়া সরকারি বা স্থানীয় পর্যায়ে কোনো তালিকা না থাকা এবং পারিবারিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক চাপে পরিচয় গোপনের কারণে বীরাঙ্গনাদের খুঁজে বের করা প্রথম ও বড় চ্যালেঞ্জ। গেজেটভুক্তির বিভিন্ন ধাপে বেশিরভাগ আবেদনকারী বীরাঙ্গনা নানা পক্ষ হতে বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার। গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়ায় অন্যতম জটিলতা হচ্ছে যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করা, যা কোনোভাবেই সংবেদনশীল নয়। এ ছাড়া বীরাঙ্গনাদের স্বীকৃতি প্রদানের এই প্রক্রিয়ায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সৃষ্ট নেতিবাচক মনোভাব থেকে বীরাঙ্গনা, তাদের পরিবার-পরিজন সর্বোপরি সাধারণ মানুষদের উত্তরণের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেই। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিতকরণে একদিকে পর্যাপ্ত সরকারি প্রাধান্যের ঘাটতি ও অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতিবাচক মনোভাবের কারণে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধারা প্রান্তিকীকরণের শিকার। বীরাঙ্গনা মুক্তিযুদ্ধাদের চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। বীরাঙ্গনাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিকার প্রাপ্তির এই সংবেদনশীল বিষয়টি যেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক, সেখানে পরিকল্পনাহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি, কাঠামোগত জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি নির্ভরতা, অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ, জবাবদিহি ব্যবস্থা ও সংবেদনশীলতায় ঘাটতি প্রক্রিয়াটিকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই হয়রানি ও হতাশাব্যঞ্জক করে তুলেছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালেই বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সাল থেকে গেজেট প্রকাশ এবং অনান্য সুযোগ- সুবিধার বিধান করা হয়, যা দেরিতে হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সার্বিক বিবেচনায় এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরণে দশ দফা সুপারিশ প্রদান করেছে টিআইবি। সুপারিশসমূহের মধ্যে রয়েছে- বীরাঙ্গনাদের খুঁজে বের করার জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো ঠিক করা, উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও তরুণ প্রজন্মের নাগরিকদের নিয়ে কমিটি গড়ে তোলা যারা স্থানীয় পর্যায়ে বীরাঙ্গনাদের খুঁজে বের করবে এবং তালিকাভুক্ত করতে সার্বিক সহায়তা করবে, সমাজে বীরাঙ্গনাদের সম্মানজনক অবস্থানের জন্য তাদের অবদানকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা, মুক্তিযুদ্ধ ও নারী বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে/কাজে বীরাঙ্গনা বিষয়ক কার্যক্রমসমূহ আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং গণমাধ্যমে বীরাঙ্গনাদের অবদান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসকেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে বীরাঙ্গনাদের সম্পৃক্ত করা, বীরাঙ্গনাদের সামাজিক স্বীকৃতির জন্য সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে বীরাঙ্গনারা নিজেদের প্রাপ্য সম্মান গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হন। এর আগে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট-কোয়ালিটেটিভ রাবেয়া আক্তার কনিকা। টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরামের তত্ত¡াবধানে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মন্জুর-ই-আলমের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com