মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ১১:২০ পূর্বাহ্ন

বুয়েটছাত্র ফারদিনের বান্ধবী বুশরা ৫ দিনের রিমান্ডে

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২

এফএনএস: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ (২৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় তার বান্ধবী বুশরার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে রামপুরা থানা পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বুশরাসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। রামপুরা থানায় নিহত ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওইদিনই রাজধানীর রামপুরা থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন। নিখোঁজের দুদিন পর গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। ফারদিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এরইমধ্যে বুশরা ও শীর্ষ সংশপ্ত নামে তার দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বান্ধবী বুশরা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিহত ফারদিনের বাবা বলছেন, গত ৪ নভেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওইদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফারদিন আমাতুল­াহ বুশরার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। প্রথমে তারা দুজন সিটি কলেজ এলাকায় মিলিত হন। পরে রাজধানীর নীলক্ষেত ও ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে বেড়ান। বিকেল ৫টার দিকে ‘য়াম চা ডিস্ট্রিক্ট’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় ঘুরেছেন তারা। পরে রাত ১০টার দিকে ফারদিন পরশ ও আয়াতুল­াহ বুশরা রিকশায় রামপুরা টিভি ভবন এলাকায় আসেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ হন বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ। এজাহারে ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা উলে­খ করেছেন, গত ৪ নভেম্বর দুপুর ৩টার দিকে ফারদিন বুয়েটের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। পরদিন ৫ নভেম্বর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরে মায়ের হাতে দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা ছিল তার। পরে জানতে পারি আমার ছেলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি ও তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এজাহারে নূর উদ্দিন আরও বলেন, বুয়েটের শিক্ষক ও ফারদিনের সহপাঠীরা ফারদিনের মোবাইলফোনে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ পায়নি। সবাই তার মোবাইলফোন বন্ধ পায়। তিনি আরও বলেন, ফারদিনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এই বিষয়টা আমি জানতে পারি ৫ নভেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে। তখন আমি তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে বন্ধ পাই। এরপর ফারদিনের সহপাঠী বন্ধু-বান্ধব সবাই মিলেও কোনো সন্ধান পায়নি। এমতাবস্থায় ৫ নভেম্বর আমার নিখোঁজ ছেলের বিষয়ে রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। নূর উদ্দিন এজাহারে বলেন, সাধারণ ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিতে রামপুরা থানার ওসি ও থানার ফোর্সদের চুলছেঁড়া জেরার মুখে আয়াতুল­াহ বুশরা জানান, ফারদিন পরশ গত ৪ নভেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওইদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বুশরার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তিনদিন ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর গত ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার সময় জানতে পারি, আমার ছেলের লাশ নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নৌ পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার ছেলে ফারদিনের লাশ শনাক্ত করি। ফারদিনের বাবার ধারণা, তার ছেলেকে ৪ নভেম্বর রাত ১০টার পর থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যে কোনো সময় রামপুরায় অথবা অন্য কোথাও হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ফারদিন নিখোঁজ ও মৃত্যুতে বুশরার ইন্ধন আছে বলেও উলে­খ করেন ফারদিনের বাবা। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে ঘটনাটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হওয়া এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার ও দোষীদের শাস্তি হবে। ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য রিভারাইন’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন। ফারদিনের মা ফারহানা ইয়াসমিন গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল­া উপজেলার নয়ামাটিতে। তিন ভাইয়ের মধ্যে ফারদিন ছিলেন সবার বড়। তার মেজ ভাই আবদুল­াহ নূর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। ছোট ভাই তামিম নূর এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। এদিকে ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখনো মূল রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। রহস্য উন্মোচনে থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, এলিট ফোর্স র‌্যাব, সিআইডিসহ একাধিক ইউনিট কাজ করছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ফারদিনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেও কাজ করছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ফারদিনের লাশ নারায়ণগঞ্জের ফতুল­ার দেউলপাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ তদন্ত সাপেক্ষ বলে জানিয়েছেনস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যুগপুর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যার শিকার। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ-পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার বিভিন্ন স্থানে লোকেশন পাওয়া গেছে। তদন্তপূর্বক এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। ফারদিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি ফরদিনের বান্ধবী বুশরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ব ও সমসাময়িককালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এটা নিয়ে কাজ করছে। তদন্তসাপেক্ষে খুনের নেপথ্যের কারণ বলা যাবে। এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে, সে অনুযায়ী পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com