রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫২ অপরাহ্ন

মাস্ক পরাসহ দ্রুত বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহŸান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২

এফএনএস: সকলকে মাস্ক পরাসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনার বুস্টার ডোজ নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল রোববার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মিটিংয়ে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহেমদুল কবীর। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে সব বন্দরে স্ক্রিনিংয়ে জোর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নেওয়ার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব দেশে করোনা সংক্রমণ বেশি সেসব দেশ থেকে আগত যাত্রীদের সন্দেহ হলে করোনা টেস্ট করানো হবে। ডা. আহেমদুল কবীর বলেন, দেশে করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা এখনও সাত থেকে আট জনের মধ্যে থাকলেও ইতোমধ্যে আইইডিসিআরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জিমোন সিকুয়েন্স চলমান রাখতে। কেননা করোনার নতুন ধরনটি দেশে আসলে দ্রুত শনাক্ত সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, ডিএনসিসি হাসপাতালকে আরও বেশি সুসজ্জিত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে বেশি রোগী সেখানে ভর্তি ও সেবা নিশ্চিত করা যায়। করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে গেলেও যাতে চিকিৎসা সংকট না দেখা দেয় সে কারণে দেশের সবগুলো হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন এ উপধরনের উপসর্গ এবং এর চিকিৎসায় করণীয় নির্ধারণের জন্য দু-একদিনের মধ্যে কারিগরি কমিটির মিটিং হবে বলেও জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই অতিরিক্ত মহাপরিচালক। চীনে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহŸান জানিয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) অধ্যাপক আহমেদুল কবির বলেন, সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। চীনে শুধু ডিসেম্বরেই প্রায় ২৫ কোটি লোক আক্রান্ত হয়েছে। যে ভ্যারিয়েন্টটি চীনে এসেছে সেটি হলো বিএফ৭, যা বিএ৫ এর সাব-ভ্যারিয়েন্ট। এটাকে বলা হয়, আর-১৮। আগে ভ্যারিয়েন্ট ছিল আর-৪, অর্থাৎ একজন থেকে ৪ জনকে আক্রান্ত করতে পারতো। আর-১৮ একজন থেকে ১৮ জনকে আক্রান্ত করতে পারে। নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের ক্ষমতা ৪ গুণ বেশি। জাতীয় টিকা প্রয়োগ কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. শামসুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা সব স্কুলগুলোতে টিকা দিয়েছি। কিছু শিক্ষার্থী বাদ পড়েছে। সেটা সারা ঢাকাতেই আছে। আমরা দুটি কেন্দ্র নির্ধারণ করেছি যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয়। স্কুলে যখন দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হবে, তখন যদি বাদ পড়া শিক্ষার্থী যায় তাকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শিগগির দ্বিতীয় ডোজের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। স্কুল ছুটি থাকায় আমরা শুরু করতে পরিনি। হয়তো ১ জানুয়ারি থেকে এটা শুরু হয়ে যাবে। তখনই প্রথম ডোজের টিকা নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। চীনের উহানে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রথম করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। এরপর তা মহামারি আকারে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এ বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে নতুন উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের ওমিক্রনের নতুন উপধরন বিএফ.৭-এ বিপর্যস্ত চীন। এরইমধ্যে ভারতসহ ৯১টি দেশে অতিসংক্রামক এ ধরনে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসটি প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ ও নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করছে। স¤প্রতি চীনে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরপরই প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি দেশবাসীকে মাস্ক পরার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি ভাইরাসটির জিন বিশ্লেষণ করারও কথা বলেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com