শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আইনি দুর্বলতায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা \ সহজেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছে সাতক্ষীরা শহরে অবৈধ স্থাপনা অপসারন \ মফস্বলে স্ব উদ্যোগে সরিয়ে নিচ্ছে সাতক্ষীরায় সামাজিক স¤প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত \ সাফ জয়ী দলের মাসুরাকে সংবর্ধনা প্রদান সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত নগরঘাটায় সড়ক দূর্ঘটনায় আহত শিক্ষকের মৃত্যু ৪০ বছর ধরে পা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে আকবর আলী চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্বময় আলোকিত বাংলাদেশ পদ্ধতিগত সমস্যায় অকোজে মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সের ই-স্কোর বোর্ড পশু হাসপাতাল মোড়ে সড়ক বিভাগের উদ্ধার কৃত জমি \ দখলে রাখার চেষ্টায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় বিশেষ ইউনিট ‘এমআরটি পুলিশ’

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

এফএনএস: দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ ডিসেম্বর। মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা, যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় গঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের আলাদা বিশেষায়িত ইউনিট। নতুন এই ইউনিটটির নাম হবে- ‘ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ’ বা ‘এমআরটি পুলিশ’। এমআরটি পুলিশে ৩৫৭টি পদ সৃষ্টি এবং ২১টি যানবাহন টিওএন্ডইতে অন্তর্ভুক্তকরণ সম্বলিত প্রস্তাবটি জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে চ‚ড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। জানা যায়, ঢাকা ও এর আশপাশে পাঁচটি মেট্রোরেল নির্মিত হচ্ছে। এর আওতায় থাকছে ১২৮ কিলোমিটার যোগাযোগ ব্যবস্থা। আগামী ডিসেম্বরেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রথমাংশ। এর নিরাপত্তায় ছাড় দিতে চায় না মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তাই চাহিদা অনুযায়ী গঠন করা হচ্ছে এমআরটি পুলিশ ইউনিট। মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশনে এটিএম বুথ, ইলেকট্রিক সরঞ্জাম ও দোকান থাকবে। প্রতি মুহূর্তে যাতায়াত করবে কয়েক হাজার যাত্রী। এজন্য প্রত্যেকটি স্টেশনে পুলিশ ফাঁড়ির প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিএমটিসিএলের এ যোগাযোগ নেটওয়ার্কে ৫১টি উড়াল ও ৫৩টি পাতাল স্টেশনসহ মোট ১০৪টি স্টেশন তৈরি হবে। বিশাল এ স্থাপনা ও যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিতে এ বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, এমআরটি পুলিশের জন্য একজন উপ-মহাপরিদর্শক, একজন অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক, একজন পুলিশ সুপার, একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ৭ জন ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র), একজন ইন্সপেক্টর (সশস্ত্র), ৬ জন উপপরিদর্শক (এসআই), ৫১ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ১০ জন নায়েক, ২৭০ জন কনস্টেবল, একজন হিসাবরক্ষক, একজন উপ-সহকারী হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটরসহ মোট ৩৫৭ জন জনবলের একটি সাংগঠনিক কাঠামো মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কারণ এরইমধ্যে মেট্রোরেলের পিলারে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার লাগানোসহ মেট্রোরেলের যন্ত্রপাতি চুরি হয়। স¤প্রতি মেট্রোরেলের পিলারে পোস্টার লাগানোর অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহ আলী এলাকা থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পের মালামাল চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় চোরাই ১৮টি আইবিমসহ একটি ট্রাক, একটি প্রাইভেটকার ও নগদ টাকা জব্দ করে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও সরকারের আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবিম, অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চোরাই দল বিভিন্ন পন্থায় দ্রুত খন্ড খন্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙারি ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন। তাদের কাছ থেকে চোরাই ১৮টি আইবিম যার ওজন ৪০ টন (বাজারমূল্য ২৫ লাখ টাকা), একটি ট্রাক, একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা ও ১৬টি মোবাইল জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান, তারা একটি বিশেষ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গেও জড়িত। তারা পরস্পর যোগসাজশে কিছুদিন ধরে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আইবিমসহ অপ্রয়োজনীয় লোহা, ইস্পাত, তার, মেশিন কৌশলে চুরির পর খন্ড খন্ড করে কেটে তা বিভিন্ন ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, মেট্রোরেল দেশের একটি নতুন ট্রানজিট প্রকল্প। তাই স্থাপনার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও যাত্রী সুরক্ষায় একটি বিশেষ ইউনিট দরকার। এ ছাড়া মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশনে এটিএম বুথ, ইলেকট্রিক সরঞ্জাম ও দোকান থাকবে। প্রতি মুহূর্তে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করবে। এজন্য প্রত্যেকটি স্টেশনে পুলিশ ফাঁড়ির প্রস্তাব করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ওঅ্যান্ডএম) ফারুক আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা, যাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের আলাদা বিশেষায়িত ইউনিট। নতুন এই ইউনিট এমআরটি পুলিশের প্রস্তাবনাটি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রস্তাবনাটি সচিব কমিটিতে রয়েছে। তিনি বলেন, এমআরটি পুলিশের জনবলের জন্য ৩৫৭ জন সদস্যের যে নিয়োগটি হবে সেটি পুলিশ বাহিনী থেকে হবে। এ ইউনিটের সদস্যদের জন্য থাকবে আলাদা ইউনিফর্ম। তবে ইউনিফর্মটি এখনো চ‚ড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এমআরটি পুলিশ ইউনিট বাস্তবায়নে প্রস্তাবনাটি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। অনুমোদনের পরই দ্রুত মেট্রোরেল পুলিশের কাজ শুরু হবে। এদিকে, মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কিলোমিটার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ টাকা। আর সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা ও সর্বোচ্চ ভাড়া ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাড়া মওকুফ থাকবে। মেট্রোরেলে মাসিক, সাপ্তাহিক, পারিবারিক এবং কার্ডে ভাড়া দেওয়ার বিশেষ সুবিধা থাকবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রতিবার ভ্রমণে বিশেষ ছাড় পাবেন। মেট্রোরেলের প্রতি কোচে ৪৮ জন করে যাত্রী বসতে পারবেন। মাঝখানের চারটি কোচ হচ্ছে মোটরকার। এতে বসার ব্যবস্থা আছে ৫৪ জনের। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে বসে যেতে পারবেন ৩০৬ জন। প্রতিটি কোচ সাড়ে ৯ ফুট চওড়া। মাঝখানের প্রশস্ত জায়গায় যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করবেন। দাঁড়ানো যাত্রীদের ধরার জন্য ওপরে হাতল এবং স্থানে স্থানে খুঁটি আছে। সব মিলিয়ে একটি ট্রেনে বসে এবং দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। দিয়াবাড়ির ডিপো থেকে ধাপে ধাপে ট্র্যাকে উঠেছে মেট্রোর একেকটি ট্রেন সেট। শুরুটা হয়েছিল ডিপো থেকে স্টেশন এক পর্যন্ত। এরপর স্টেশন দুই, তিন হয়ে পল­বী। এরইমধ্যে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের ট্রায়াল হয়ে গেছে। মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত। সংকেত, যোগাযোগসহ ১৭ থেকে ১৮টি ব্যবস্থা ট্রেন চলার ক্ষেত্রে কাজ করে। উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশ। তবে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com