বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন

লাইসেন্স বাতিল ও মামলার প্রতিবাদে বেনাপোলে আমদানি-রফতানি বন্ধ

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ৬ মার্চ, ২০২২

এফএনএস: যশোরে বেনাপোলের দুটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমদানি-রফতানি বন্ধসহ সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন। এতে দুই দেশের বন্দর এলাকায় শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ভারত থেকে বন্ড লাইসেন্সের (শুল্ক মুক্ত) মাধ্যমে আমদানি করা ডেনিম ফেব্রিকসের ট্রাকে বিশেষভাবে লুকিয়ে আনা প্রায় অর্ধকোটি টাকার শাড়ি, থ্রি-পিচ, মদ, ফেনসিডিল, বিদেশি সিগারেট, ওষুধ ও কারেন্ট জালসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার সঙ্গে ভারতীয় চালকরা সরাসরি জড়িত থাকলেও, তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডেনিম ফেব্রিকসের আমদানিকারক ঢাকার অনন্ত ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেড ও ফ্যাশান ফোরাম লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় বুধবার বেনাপোলের শিমুল ট্রেডিং এজেন্সি ও আইডিএস গ্র“প নামে দুটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করে বেনাপোল কাস্টমস হাউস। পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফের কর্মচারীদের নামেও মামলা করা হয় বেনাপোল পোর্ট থানায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আটক না করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল ও কর্মচারীদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে, গত বৃহস্পতিবার সকালে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির এক যৌথ সভায় বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। লাইন্সেস পুনর্বহাল ও মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বন্দর ব্যবহারকারীরা। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত না করে সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যের নামে মিথ্যা মামলা করেছে কাস্টমস। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখায় পণ্য চালান গ্রহণের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, ভারতের এক শ্রেণির ট্রাকচালক অর্থের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে বৈধ আমদানি পণ্যের সঙ্গে চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পাচার করে আসছে। এর আগে অসংখ্য ট্রাক অবৈধ মালামালসহ বেনাপোল কাস্টমস বিজিবি’র হাতে ধরা পড়েছে। অপরদিকে, পেট্রাপোল বিএসএফ ও পুলিশ সোনা, ডলার, পাসপোর্ট, মোবাইল, রুপার গহনাসহ ট্রাকচালককে আটক করেছে। ভারতে চালক আটক হলেও বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ভারতীয় কোনও ট্রাকচালককে আটক করে না। এখানে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফকে দায়ী করা হয়। অথচ তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এ রকম ঘটনায় ইতোমধ্যে ১০টি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার আবদুল রশীদ মিয়া জানান, গত ২ মার্চ মিথ্যা ঘোষণায় বৈধ চালানের আড়ালে বিভিন্ন চোরাচালান পণ্যসহ বন্দর থেকে ভারতীয় একটি ট্রাক আটক করা হয়। এ অভিযোগে দুটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করে শোকজ করা হয়েছে। অবৈধ পণ্য আমদানির অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়।আমদানি-রফতানিসহ কার্যক্রম চলমান রাখতে সংশ্লিষ্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com