রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দিল্লির সঙ্গে পানি বন্টন, নিরাপত্তা ও বাণিজ্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: শেখ হাসিনা দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আলফেরদৌস আলফাকে পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সম্বর্ধনা ইসরাইলি হেলিকপ্টারে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা মথুরেশপুরের মসজিদ হতে মাইকের ব্যাটারী চুরি সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে মোবাইল কোর্ট শ্যামনগর গাবুরায় খোলপেটুয়ার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, আতংকে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিশু লামিয়ার চিকিৎসার সহায়তা প্রদান সাতক্ষীরা সদরের নবনির্বাচিত এমপি আশু ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুকে সংবর্ধনা প্রদান পাইকগাছার ১০ হাজার কৃষকের মাঝে নারিকেল চারা, বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ সুস্থ্য সবল জাতি গঠনে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নাই…এমপি রশীদুজ্জামান

শেষ মুহুর্তের চেষ্টায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪

দৃষ্টিপাত ডেস্ক ॥ বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রীক দেশ, বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের বহুল কাঙ্খিত, আলোচিত লোকসভা নির্বাচন শেষে জয়রথ দৃশ্যতঃ বিজেপি নেতৃত্বধীন জোটেরই। সর্বভারতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপির একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার যে আশা ছিল অবশ্য তা আশাহত করেছে। সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ২৭২টি আসন বিজেপি একক ভাবে পাইনি সেখানে তাদের অর্জন ২৪০ আসন অন্যদিকে ভারতের অতি প্রাচীন দল কংগ্রেস এবার যোরে সোরে প্রচারনায় নামলেও সাফল্য পেলেও ৯৯ আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে এবং শেষ হাসি হাসতে পারেনি। বিগত ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যা গরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকারগঠন করে। আগামী শনিবার তৃতীয় বারের মতবিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যা অধ্যুষিত ও বৃহত্তম গণতান্ত্রীক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারকেকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। ভারতের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৪০ আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি এবং কংগ্রেস ৯৯টিতে জিতেছে। অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে সমাজবাদী পাটি (এসপি) আসন পেয়েছে ৩৭টি, তৃণমুলত কংগ্রেস ২৯টি, ডিএমকে ২২টি, তেলেগু দেসম পার্টি (টিডিপি) ১৬টি, জনতাদল, (জডি-ইউ) ১২টি, শিবসেনা (উদ্ভব) ৯টি, ন্যাশনালিষ্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপিএমপি) ৮টি, শিবসেনা (এস,এই,এম ৭টি) লোকজনশক্তি পার্টি রোমবিলাস) ৫টি, ওয়অইএসআর সিপি ৪টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) কমিউনিস্ট পাটি অব ইন্ডিয়া (মার্কিস্ট) ও সিপিআই(এস) ৪টি করে আসন পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ২৭২ ম্যাজিক ফিগার পার করলেও কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়অ জোট ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার গঠনের। কংগ্রেসের লক্ষ্য বিজেপি জোট হতে দুই বা ততোধিক আঞ্চলিক দলকে কাছে টানা যায় তাহলে সরকার গঠনের শক্তি সঞ্চয় হবে ভারতের সংশদীয় ঘনতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী ও সরকার গঠনের আমন্ত্রন জানাবেন এবংশপথ পড়াবেন পরবর্তিতে লোকসভায় উক্ত সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমান করতে হয়। বিধায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জোটগত জয়ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় নরেন্দ্রমোদীই সরকার গঠন করতে চলেছৈ এটাই বাস্তবতা। ভারতের রাজনীতিতে অতি পরিচিত এবং জোট ত্যাগী হিসেবেও খ্যাত চন্দ্রবাবু নাইড়ু ও নিতীশ কুমারই বিজেপি জোটের অন্যতম সারথী এবং শক্তি। গতকাল পর্যন্ত ইন্ডিয়াজোট চন্দ্রবাবু নাইডু ও নিতীশ কুমারের সাথেসরকার গঠন ও ইন্ডিয়া জোটে যোগদানের চেষ্টা চালিয়েছে বলে ভারতের বিভিন্ন মিডিয়া জানিয়েছে। কিন্তু গতকালের অপরাহেৃ চন্দ্রবাবু নাইড়ু দিল্লীতে বিজেপি জোটের বৈঠকে যোগদানের আগ মুহুর্তে জানিয়ে দিলেন যে তিনি ও তার দল বিজেপি জোটের সাথেই থাকছেন। অতীতে এই দুই নেতার বিজেপি জোট ছাড়ার ইতিহাস আছে। নিতীশ কুমার ইন্ডিয়া জোট গঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে জোট সঙ্গীদের সাথে মত বিরোধের কারনে ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে বিজেপি যোগভূক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদী গুজরাটের তিন বারের মূখ্য মন্ত্রী এবং ভারতের দুই বারের প্রধানমন্ত্রীত্বের দীর্ঘ সময় গুলোতেজোট সরকারের অভিজ্ঞতা শুন্য। নিজের পরিষদ, দলএবং নিজস্বতায় সরকার পরিচালনা করেছেন কিন্তু এবারের বাস্তবতায় সরকার গঠন, মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন হতে শুরু করে সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে জোট মিত্রদের মতামত গ্রহন করার বিকল্প নেই। আর এখানে জোট সঙ্গীদের মতামত প্রধান্য দেওয়া না দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধ দেখা দিতে পারে এবং এক কথায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার প্রধান হিসেবে কোন বিসয়ে বিজেপি দলগত ভাবে একক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্যবাধকতা থেকেই যাচ্ছে। জোট সঙ্গী হিসেবে চন্দ্রবাবু আর নিতীশ কুমারের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সরকারকে শক্তিশালী করবে এটা নিশ্চিত। ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচন ছিল অনেকটা চ্যালেঞ্জের ছয় সপ্তাহ যাবৎ সাত দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তেমন হাঙ্গামা বা অশান্তীর সৃষ্টি হইনি। জাতিগত ভাবে ভারতীয়রা গণতন্ত্রের প্রতি, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একই সাতে তাদের নির্বাচন এবং নির্বাচন সংস্কৃতি অনন্য অসাধারন বলা যায় মডেল। হিংসা বিদ্বেষ নেই তা নয় আবার রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে অনেক সময়ে প্রতিপক্ষ দমনে ব্যবহারেরর অভিযোগ ও উঠে তাকে সব মিলে ভারতে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হতে চলেছে। ভারতের লোকসভার নির্বাচনে এবার বিশেষ ভাবে লক্ষনীয় বিজেপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশে তাদের ফলাফল বিপর্যয়। ৮০ আসনেরএই প্রদেশটিতে কংগ্রেস জোট ৪০টি আসন পেয়েছে অন্যদিকে বিজেপি জোট ৩৭টি আসন লাভ করেছে। পশ্চিম বাংলায় মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসের জয় জয়াকার। লোকসভার ৪২টি আসনের মধ্যে ২১টি লাভ করেছে জনতার দল মৃণমূল, অন্যদিকে গতবারের (২০১৯) সাল অপেক্ষা বিপর্যয় ঘটেছে বিজেপির আসন ১২টি পেয়েছে। ভারতের লোকসভার নির্বাচনে তারকাদের উপস্থিতি (প্রার্থী) ছিল উল্লেখযোগ্য নরেন্দ্রমোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা ভারতের জনসাধারনের ইচ্ছার প্রতিফলন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com