রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরার সবজি বাজারে স্বস্তি ঃ মাছ মাংস, মিষ্টান্ন বাজারে অস্বস্তি \ চলছে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা ঃ বাজার মনিটরিং জরুরী

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২

মাছুদুর জামান সুমন \ সর্বত্র শীতের উপস্থিতি, শীতের দিনগুলোতে বাজারে নানান ধরনের সবজির সমাহার ক্রেতা সাধারনের জন্য আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সারা বছর হাট বাজারের সবজির দেখা গেলেও মূল্য সহনশীল ছিল না। কিন্তু বাজারে বর্তমান সময় গুলোতে সবজির ব্যাপক উপস্থিতি যেমন অনুরূপভাবে মূল্য অনেক অনেক কম। সবজি বাজারের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে, জনসাধারন আনন্দের সাথে সবজি সংগ্রহ করছে। ফুলকপি, ওলকপি, সিম, বিটকপি, পালংশাক, চুবড়ি আলু, গোল আলু সহ নানান ধরনের সবজির মূল্য অতীতের যে কোন সময় অপেক্ষা কম। সবজির বাজারে স্বস্তি বিরাজ করলেও অস্বস্তি, আর বিড়ম্বনায় বিপর্যস্থ ভোজ্যতেল মাছ, মাংস, চিনি সহ নানান ধরনের মিষ্টান্ন খাবারে। স¤প্রতি ভোজ্য ছোয়াবিনের মূল্য হ্রাস হলে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরাতন দামে ভোজ্য তেল বিক্রি করছে মাছে ভাতে বাঙ্গালী চিরায়ত প্রবাদটি পানসে আর হলুদাভাব হয়ে পড়েছে। মাছের বাজারে আগুন, ক্রেতা সাধারনের সাথে কথা বলে জানা গেছে অন্যান্য বছর এই সময়ে সাদা প্রজাতির মাছের মূল্য অপেক্ষাকৃত সহনশীল থাকে আর কারন হিসেবে বলছেন সাতক্ষীরার ঘের ভেঁড়ী গুলো ছেচা মারার সময়। কিন্তু এবারের বাস্তবতা ভিন্ন মাছের বাজারের মূল্য বৃদ্ধির ঝাজ যেন থেকেই যাচ্ছে। দেশী ডিম যেন হারিয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরার হাট বাজার গুলোতে দেশী মুরগীর ডিমের প্রতিটি ১৩/১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর এ ক্ষেত্রে এক শ্রেনীর ডিম ব্যবসায়ীরা প্রতারনার আশ্রয় নিচ্ছে। পোল্ট্রি ডিম দেশী মুরগীর ডিম বলে বিক্রি করার অনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে তো চলছেই। পোল্ট্রি মাংসের মুল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নাপেলেও সহনীয় নয়। প্রতিকেজি আস্ত পোল্ট্রি ১১০টাকা হতে ১২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস সেতো স্বপ্নের এমনই মন্তব্য আর হতাশা ক্রেতাদের। সাতক্ষীরার হাট বাজার গুলোতে গরুর মাংসের সামান্যতম সংকট নেই তবে মূল্য বৃদ্ধির অসম প্রতিযোগিতা চলছেই। প্রতি কেজি গরুর মাংসের মুল্য ৬০০টাকা কোন কোন এলাকায় তার কম বেশী হলেও এ ক্ষেত্রেও এক শ্রেনির মাংস ব্যবসায়ীরা ক্রেতা সাধারনের সাথে প্রতারনা করছে। বোকনা গরুর মাংস কোন কোন মাংস ব্যবসায়ী এড়ে গরুর মাংস বলে দেদারছে বিক্রি করছে। খাসির মাংস সেতো সোনার হরিন, জেলার হাট বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। গরুর ন্যায় খাসির মাংসেও প্রতারনার আশ্রয় নিচ্ছে এক শ্রেনির অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা। বকরি এবং ভেড়ার মাংস অবলিলায় খাসির মাংস বলে বিক্রি করার প্রবনতা থেমে নেই। এর বাইরে অসাধু শ্রেনীর মাংস ব্যবসায়ীরা গরু খাসি সহ অন্যান্য মাংসে পানি মিশিয়ে ওজনে বৃদ্ধির অনৈতিক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। চিনির বাজারে হতাশা কাটতে চাইছে না। প্রতিটি পরিবারের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এই সামগ্রীর মূল্য কয়েক দফা বেড়েছে। সাংসারিক প্রয়োজনে চিনির মূল্য ব্যঘাত সৃষ্টির পাশাপাশি মিষ্টান্ন বাজারেও প্রভাব পড়েছে। সন্দেশ, রসগোল­া, চমচম, লেডিকেনি, ছানার জিলাপী, সাধারন জিলাপি, বাতসা সহ সব ধরনের মিষ্টির মূল্য কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট্ট একটি উদাহরন ইতিপূর্বে চমচমের বাজার দর কেজি প্রতি ১০০ টাকা ছিল বর্তমানে চমচম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ হতে ১৯০ টাকা, চিনির মূল্য বৃদ্ধিই কেবল মিষ্টির মূল্য বৃদ্ধি তা নয়, এক শ্রেনির অসাধু মিষ্টি ব্যবসায়ীরা সুযোগে মিষ্টির মূল্য বৃদ্ধি করছে। বাজারে দধির ও মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে, সেই সাথে দধি ওজনে কারচুপি ও প্রতারনার আশ্রয় নিচ্ছে বিক্রেতারা। মাটির পাতিলের ওজন এবং প্রকৃত ওজনের বিস্তর ব্যবধান যে কারনে ক্রেতারা ঠকছে। সাতক্ষীরার বাজার ব্যবস্থায় ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা ও ঠকানোর যে উৎসব চলছে তা রোধে অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জরুরী। এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com