বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন

সৌন্দর্য বর্ধনকারী গোলপাতা ভূমি রোধে ভুমিকা পালন করে চরাঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধি প্রয়োজন

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ৭ মার্চ, ২০২২

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ গোলপাতা গোল হয়না। কিন্ত কেন? কি কারনে? এধরনের নাম হল তার প্রকৃত তথ্য হয়ত অজানা সবার। তবে এর ফল কিছুটা দেখতে গোলের মত। কিন্তু পুরাপুরি গোলাকার নয়। গোল ফলের কারনে গোলপাতা নাম করণ করা হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। গোলফল খেতে সুস্বাদু। কত জনে খেয়েছে বা চেনে এ ফল তাও অনেকের অজানা। এ দুঃপ্রাপ্ত ফল শুধু মাত্র তারা পেয়ে থাকে যারা কর্মসংস্থানের জন্য সুন্দরবনের সাথে জড়িত। গোলপাতা দেখতে কিছুটা নারকেল পাতার মত। তবে নারকেল পাতার সাথে সাদৃশ্য থাকলেও সময়ের ব্যবধানে নারকেল গাছ মাটি থেকে উপরের দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে এটি তেমন হয়না। গোলপাতা নাইপাফরুটিকান্স কান্ডবিহীন খেজুরের প্রজাতি। যা ম্যানগ্রোভবনে নদীর তীরে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মায়। বাংলাদেশের দক্ষিন অঞ্চলে গোলপাতা খুবই পরিচিত এটির জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে পরিচিতি রয়েছে।সুন্দরবনে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, চীন শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাভা, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর,ফিলিপাইন, নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান সহ বিভিন্ন দেশের দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়। ধরিত্রীর বুকে মহান ¯্রষ্টার সব সৃষ্টি অপূর্ব রুপ মাধুরিতে গড়া। গোলপাতা দেখতে খুব সুন্দর। এর সবুজ পাতা মৃদু বাতাসে যখন দোল খায় দেখলে যেন মনে হয় কল্পনার রাজ্যের মহা সবুজ রাণী এলো মেলো চুলে নিজেকে মেলে ধরছে। বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে এমন দৃশ্য দেখতে কার না ভাল লাগে। আরও যদি এর সাথে সংযুক্ত হয় পাখির কলতান তাহলে সৃষ্টি হয় এক প্রাকৃতিক আলাদা অনুভুতি। এ সুদৃশ্য গাছের পাতা গুলি ৯ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পুরুষ এবং মহিলা ফুলের সাথে এক গভীর সুসম্পর্ক বিদ্যমান। পাকা বাদাম বল থেকে আলাদা হয়ে জোয়ারে উপর ভাসে। এর থেকে মাঝে মাঝে অঙ্কুরোদগম হয়। এ প্রজাতির গাছ মাঝারি লবণ সহনশীল। নদীর লোনা জলে ভাল জন্মে। বিশুদ্ধ সাগরের লোনাজল এদের জন্য হুমকি স্বরুপ। মাঝারি লবনে ভাল জন্মে বলে অনেকে নিজেদের ব্যক্তিগত লবনাক্ত জায়গায় এ গাছ লাগিয়ে থাকে সখের বশে। এমন একটা জায়গার স›ধ্যান পেয়ে দৃষ্টিপাতের এ প্রতিবেদক সেখানে গিয়ে দেখতে পান সবুজ বর্ধক গোলপাতার কৃত্রিম মনোমুগ্ধকর বাগান। শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম (গেট খালাসি) তার বসত ভিটার পাশে লাগিয়েছে এ গাছ। সারি সারি এ গাছ যেন স¦গৌরবে মাথা উচু রেখে জানান দিচ্ছে তারা পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন থেকে আগত। গোলপাতা দেশের দক্ষিন অঞ্চলে সর্বাধিক পরিচিত হবার মূল কারন এর পাতা ঘরের বেড়া এবং চালের ছাউনি হিসাবে এক সময় সর্বাধিক ব্যবহৃত। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের ফলে এ পাতার ব্যবহার কিছুটা কমেছে তবুও চাহিদা এখন বেশ রয়েছে। জ্বালানি হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। কোন কোন দেশে এর পাতা প্রানীর খাবার হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। আবার কোথাও এর কোচি পাতা তামাক মোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয় বাড়ির বসত ভিটার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গোলপাতা এক অতুলনীয় গাছ বিশেষ করে লবণাক্ত অঞ্চলে তা মোঃ শহিদুল ইসলামের লাগানো গোলপাতার বাগান দেখলে বোঝ যায়। এর বাইরে গোলপাতার সবচেয়ে বড় গুন এরা খুব ঘন ভাবে একটা গাছের পাশে আরেকটা গাছ জন্ম নিতে পারে।এর ফলে এ বাগান যে অঞ্চলে গড়ে ওঠে সেখান মাটি সহজে ক্ষয় হতে পারেনা। জোয়ার ভাটার স্রোতে নদীর পলি কাদামাটি গাছ ও পাতায় আটকে যায়। এক পর্যায়ে সেখানে ভরাট ভুমি গড়ে ওঠে। ভূমি ক্ষয়রোধে গোলপাতার জুড়ি নেই। নদীর চর অঞ্চল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সৌন্দর্য বর্ধনকারী গোলপাতা গাছ বনায়নে প্রতি গুরুত্ব দেবেন বলে বিশ্বাষ সুধীজনদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com