শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

হিজবুল্লাহ দুই শতাধীক রকেট হামলা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

দৃষ্টিপাত ডেস্ক ॥ দখলদার বাহিনী কেবল মাত্র হামাস বা হিজবুল্লাহ ও হুতিদের হামলায় বিপর্যস্থ হচ্ছে তা নয়, নিজ বাহিনীর সদস্যদের মাঝে ও চরম বৈপাত্যি, বিশৃঙ্খল আর দ্বিধা দ্বন্দ দেখা গেছে। দেশটির একাধিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে নেতানিয়াহু সরকার বরখাস্থ করায় সেনা বাহিনীর মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা জানিয়েছে ইসরাইলি সেনা বাহিনীর একটি অংশের মাঝে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করার বিষয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, ইসরাইলি এক সেনা প্রকাশ্যে তার বাহিনীর সদস্যদেরকে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করতে বলেছে। এদিকে চতুরমুখি চাপে ও হামলায় দৃশ্যত ইসরাইলি সরকার এক অস্থিতিশীল সময় অতিক্রম করছে। এরই মধ্যে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের অভ্যন্তর ভাগে দুই শতাধিক রকেট হামলা পরিচালনা করেছে। হিজবুল্লাহর ছোড়া দুই শতাধিক রকেট মুহুর মুহুর ইসরাইলের ভু-খন্ডে বিস্ফরন হয় এবং প্রতিটি রকেট ইসরাইলের প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে ছিন্ন ভিন্ন করে তোলে। কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা জানিয়েছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক হিজবুল্লাহ কমান্ডার কে হত্যার তাৎক্ষনিক বদলনিতে হিজবুল্লাহ এই হামলা পরিচালনা করে। দখলদার ইসরাইলের ভু-খন্ডে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা যখন রকেট হামলা পরিচালনা করছিলো সে সময় গুলোতে ইসরাইলের বিভাগ অবিরাম সাইরেন বাজিয়ে চলছিল। সাধারন ইসরাইলিরা সাইরেনের আওয়াজ পেয়ে অবিরাম সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে সাশ্রয় নিচ্ছিল। একই সময়ে হুতি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের ভু-খন্ডে ফিলিস্তিনি ক্ষেপনাস্ত্রের বিস্ফরন ঘটায়। উক্ত ফিলিস্তিনি ক্ষেপনাস্ত্র যে এলাকাতে বিস্ফরন ঘটে উক্ত এলাকা সহ সংলগ্ন এলাকায় আগুন জ্বলছিল। এদিকে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধ বিরতি ও বন্দী বিনিময়ের যে সকল শর্ত হামাস দিয়েছে সেই সকল শর্ত সমূহ ইসরাইল এখনও পর্যন্ত সম্মতি না জানানোয় যুদ্ধ বিরতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। হামাসের প্রথম ও প্রধান শর্ত স্থায়ী যুদ্ধ বিরতি কিন্তু বাস্তবতা হলো ইসরাইলের পক্ষ হতে শর্ত ও চুক্তিতে স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির বিষয়টি উল্লেখ করা হইনি। হামাসের অন্যান্য শর্তগুলো হলো গাজা হতে ইসরাইলি সেনাদের প্রত্যাহার করতে হবে। বাস্তচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ঘরে ফেরবে ও ইসরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদেরকে মুক্তি। কিন্তু দখলদার ইসরাইল এসকল শর্ত মানতে নারাজ উল্টো ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি না হওয়ার ও চুক্তি স্বাক্ষরিত বিলম্বিত হওয়ার ঘটনাকে দৃশ্যতঃ যুদ্ধ বিরতি বিষয়ে হামাসের অনাগ্রহের কথা বলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতির যে শর্ত দিয়েছে সে বিষয়ে অবশ্য হামাস ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইতিমধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ বিরতি সহ অপরাপর শর্তকে প্রাধন্য দিয়ে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব পাশ করেছে। এদিকে উত্তর গাজায় গতকাল ও হামাসও দখলদার সেনাদের মাঝ হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। খান ইউনিসে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী নতুন রুপে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করেছে। রাফা শহরটিকে দখলদার বাহিনী মৃত্যু পুরীতে পরিনত করলেও তবে তারা আবারও হামাসের ফাঁদে পড়েছে। হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়া আবারও কাতারের আমীরের সাথে সাক্ষাত করেছে। উল্লেখ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছায় কাতার যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করছে। কাতারের পর এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিশরের মাধ্যমে হামাসকে চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করছে। গতকাল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দখলদার বাহিনীর হামলায় গত চব্বিশ ঘন্টায় ৫০ জনের অধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com