প্রতাপনগর (আশাশুনি) প্রতিনিধি \ খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটা মুক্ত আনুলিয়া ভাঙ্গন রোধে রিং বাঁধের কাজ সম্পন্ন, স্বস্তি ফিরেছে বানভাসীদের মাঝে। আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভাঙ্গন কবলিত বিছট পাউবোর বেঁড়িবাধের পাশে টানা ৪ দিন পর জিও টিউবের মাধ্যমে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটার পানি লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার ৪ এপ্রিল ভাটার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় বাঁধ আটকানোর কাজ পরিচালনা করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন এবং সেনাবাহিনীর দুটি টিম গত তিন দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিও টিউবের মধ্যে বালি ভরে সেখানে বিকল্প রিংবাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। অবশেষে শুক্রবার তারা রিংবাধটি বাঁধতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে শুক্রবার দুপুর থেকে ভাঙন কবলিত স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ হয়েছে। পানি প্রবেশ বন্ধ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের মধ্যে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো-২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টানা তিন দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম করে জিও টিউব ব্যাগের মধ্যে বালি ভরে বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে প্রাথমিকভাবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। আরো কিছু জিও টিউব সেখানে দেয়া হবে। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে রিংবাঁধ নির্মাণের সকল কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে মূল বেঁড়িবাঁধ তৈরীর কাজ শুরু করা হবে। গত ঈদ উল ফিতরের দিন সকাল ৮ টার দিকে বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় দুই’শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করেই ধ্বসে ভিতরে পানি ঢুকতে শুরু করে। মুহুর্তের মধ্যে বানভাসিদের ঈদের আনন্দ মেলান হয়ে যায়। হাজার হাজার গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দফায় দফায় ভাঙ্গন পয়েন্টে বিকল্প রিংবাধ নির্মাণের প্রাণপণ চেষ্টা করেও জোয়ারের তোড়ে তা ব্যর্থ হয়ে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়েছে, পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বিঘা মৎস্য ঘের এবং ২১ হেক্টর জমির ফসল, শতাধিক কাঁচাঘর বাড়ি ধ্বসে গেছে। বিদ্যুত সমস্যা, সুপেয় পানির অভাব, মানুষের রান্না-খাবার,হাঁস-মুরগী ও গো খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। বানভাসি মানুষ পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও পাউবো’র বাঁধে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছেন। এহেন ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্যোগ পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা কমনা ভুক্তভোগীদের।