কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি \ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহরিয়ার হোসেন তুরান নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে পিটিয়ে আহত করার ১ মাস ৫ দিনপর মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে দশটার দিকে নিজ বাড়ি উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালচাতর গ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। নিহত তুরান কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গোয়ালচাতর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ সরদারের ছেলে। নিহত তুরানের চাচা আব্দুর রশিদ সরদার জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে তুরান উপজেলার কাজিরহাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী কেরালকাতা ইউনিয়নের কাউরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলামের দোকানে পাওনাকৃত ২০ টাকা চাইতে যায়। এসময় মনিরুল টাকা দিবে না বলে তালবাহানা শুরু করলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাজারের লোকজন এসে তাদের দুইজনকেই থামিয়ে দেয়। কিছুক্ষনপর মাংস ব্যবসায়ী মনিরুল কে বা কারোর প্ররোচনায় তুরানের দোকানের সামনে গিয়ে তুরানকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তুরান মাথা ফাটা রক্তাক্ত জখমসহ গুরুতর আহত হয় এবং মাটিতে পড়ে যায়। পরে বাজারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ডাক্তারের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি যায় এবং চিকিৎসাধীন থাকে। তিনি আরও বলেন, মাথায় ওই আঘাতের কারণে তার ভাইপো তুরান একই মাসের ২৪ ফেব্রুয়ারী রাত ১১ টার দিকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা ভাল না হওয়ায় সাতক্ষীরা শহরের সিভি হাসপাতালে এবং পরে খুলনা সিটি হাসপাতালে ভর্তি করে মাথা অপারেশন করা হয়। সেখান থেকে বাড়ি আসার পর গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে পুলিশের খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ী মনিরুলের পাটনার মফিজুল ইসলাম ও কাজীরহাট বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আসানুর রহমান জানান, মনিরুলের কাছে ২০ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পাওনাদার তুরান ও দেনাদার মনিরুলের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে মনিরুল তুরানের দোকানের সামনে গিয়ে তুরানকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তুরান মাথাফাটাসহ গুরুতর আহত হয়। পরে তারা জানতে পারে তুরান স্ট্রোক করেছে। কাজীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সভাপতি জহরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি পাশ^বতীর্ থানা শাশার্ উপজেলার নাভারণে অবস্থান করছিলাম। মোবাইল ফোনে জানতে পারলাম ২০ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র মনিরুল তুরানকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। পরে বিষয়টি উভয় পক্ষ আমাকে কিছু জানায়নি বলে আমি আর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ও তার পিতা নুরুল ইসলাম পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সামসুল আরেফিন জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।