মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি \ যশোরের মনিরামপুরে কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভেঙ্গে টয়লেট নির্মানচেষ্টার পর ২১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা ইট ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরা করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ^াস। জানাযায়, উপজেলার কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং কুশারীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একই মাঠে পাশাপাশি অবস্থিত। একই মঠের এক কোনে ৩০ বছর আগে বালিকা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি শহিদ মিনার নির্মান করা হয়। এ শহীদ মিনারে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক—শিক্ষার্থীরা বিজয় দিবস, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা, স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে আসছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে গত ১৫ জানুয়ারী কুশারীকোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে সেখানে টয়লেট(ওয়াশরুম) নির্মানের উদ্যোগে নেন।এ ব্যাপারে বালিকা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাধা দিলেও কোন কর্নপাত করা হয়নি। ফলে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক—কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করে। পরবর্তিতে বালিকা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হয়। নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্নার নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু মোত্তালিব আলম সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন। এ দিকে বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল হাসান বাদী হয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগী সুকুমার মল্লিককে আসামী করে আদালতে মামলা করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী জানান,ওয়ারেন্ট পেয়ে বুধবার তাদেরকে গ্রেফতারের পর আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তিপান। এদিকে শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইট ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ^াস। এ দিকে বৃহস্পতিবার উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত তামান্না জানান, ইতিমধ্যে কামিনীডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নতুন করে শহীদ মিনার তৈরা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।