কালিগঞ্জ ব্যুরো \ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাম্প্রতি একের পর এক ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিছুদিন পূর্বে নাজিমগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন গলি থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। সর্বশেষ ১১ মার্চ সকাল সাতটার দিকে কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা বাজার থেকে আব্দুর রহমান নামে একটা হিরো হোন্ডা এক্স স্পেলেন্ডার মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে সিসিটিভিতে মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর দৃশ্য দেখা গেল তাৎক্ষণিকভাবে চোর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সিসিটিভির ভিডিও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে, পরের দিন গতকাল বুধবার বেলা বারোটার দিকে উপজেলার সদরে জনতা ব্যাংকের সামনে রাখা মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় হাতেনাতে আটক হয়েছে বাঁশতলা বাজার থেকে মোটরসাইকেল পেশাদার চোর খলিলুর রহমান বাবু (৩৫)। উক্ত চোরের জবানবন্দী অনুযায়ী তার বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামে। খলিলুর রহমান বাবু বংশিপুরের জব্বার গাজীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দৈনিক দৃষ্টিপাতকে জানায় উপজেলা দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি গ্রামের দুলাল চন্দ্র মন্ডল এর ছেলে প্রিয়ঙ্কর মন্ডল (৩৩) তার ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেল জনতা ব্যাংকের সামনে রেখে ব্যাংকে কাজে যান। ব্যাংকের কাজ মিটিয়ে ব্যাংকের নিচে বাইরে এসে দেখে তার মোটরসাইকেলটি অন্য একজন চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। মুহূর্তে স্থানীয়দের সহতায় তাকে আটক করে। ১১ মার্চ মোটরসাইকেলের চোর সোশ্যাল মিডিয়া এবং দৈনিক দৃষ্টিপাত সহ স্থানীয় পত্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ছবির সাথে গতকালের ছবি মিলে যাওয়ায় সকলেই স্বতস্ফূতভাবে ঝাপিয়ে পড়ে উপস্থিত উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ের এক পর্যায়ে সে বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করে। সে আরও জানায় বংশীপুর এলাকার মৃত আব্দুল মসজিদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪০) ও তার সাথে ছিল। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আটক চোরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তালিকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যায়। চোর নাটকের বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাফিজুর রহমান দৈনিক দৃষ্টিপাতকে জানায় এ ব্যাপারে থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে