এফএনএস বিদেশ : ফিলিস্তিনের গাজা শহরে নতুন করে স্থল আক্রমণ বাড়িয়েছে ইসরায়েল। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, গতকাল শনিবার ভোর থেকে ভ‚খÐজুড়ে সবশেষ কমপক্ষে ৩০ জনকে হত্যা করেছে দখলদার বাহিনী। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল নতুন করে আক্রমণ শুরুর পর থেকে গাজার বিভিন্ন অঞ্চল দখলের জন্য হুমকি দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিমান হামলাও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল লেবানন এবং সিরিয়ার ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরে এক হামলায় একজন হামাস কমান্ডার এবং তার ছেলে নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। আরব নিউজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, গাজায় স্থল সেনারা ‘নিরাপত্তা অঞ্চল স¤প্রসারণের জন্য’ শুজাইয়া এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। নাসের হাসপাতালের একটি মেডিকেল সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, খান ইউনিসে একটি ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। এলেনা হেলস টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে এএফপিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক এবং প্রতিটি দিক থেকে আমাদের দিকে মৃত্যু আসছে।’ তিনি আরও বলেন, তিনি এবং তার পরিবার শুজাইয়ায় তার বোনের বাড়িতে আটকা পড়েছেন। নেতানিয়াহুর উগ্র ইহুদিবাদি সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত বুধবার বলেছিলেন, ইসরায়েল গাজা উপত্যকার ভেতরে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করবে এবং হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস এবং গাজার বিভিন্ন এলাকা খালি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশাল এলাকা দখল করা হবে, যা ‘ইসরায়েলি নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নেতানিয়াহু বলেছেন, সেনাবাহিনী গাজাকে বিভক্ত করছে এবং ‘অঞ্চল দখল’ করছে, যাতে হামাসের কাছে আটক বাকি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে বাধ্য করা যায়। গত বৃহস্পতিবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করা একটি স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ৩১ জন নিহত হয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এএফপিকে বলেন, গাজা শহরের উত্তর-পূর্বে আল-তুফাহ পাড়ার দার আল-আরকাম স্কুলে হামলায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী ও শিশু রয়েছে। সেই সঙ্গে কয়েকজন নিখোঁজদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ছিলেন, যিনি যমজ সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছিলেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ মার্চ ইসরায়েল তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু করার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভ‚খÐে ১,২৪৯ জন নিহত হয়েছে, যার ফলে মোট নিহতের সংখ্যা ৫০,৬০৯ জনে দাঁড়িয়েছে।