এফএনএস: চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ জন। গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে সাত জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক শিশু, তিন জন পুরুষ, তিন জন নারী ছিলেন। পরে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর আহত একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর এক নারী ও এক পুরুষসহ আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতদের নাম—পরিচয় জানাতে পারেননি পুলিশ। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমা বলেন, কক্সবাজারগামী রিল্যাক্স পরিবহনের বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১০ জন মারা গেছেন। সাত জন ঘটনাস্থলে এবং তিন জন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছেন। লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, চট্টগ্রামগামী একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখী দুটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। প্রথমে বাসের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর পরপরই পেছনে থাকা আরেকটি মাইক্রোবাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে প্রথম মাইক্রোবাসে থাকা বেশির ভাগ যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন, যার মধ্যে গাড়িচালকও ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশিক বলেন, লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চার জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষকে দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা—নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুই জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তৈৗফিকুল আলম বলেন, নিহতদের সবাই হাইয়েসের মাইক্রোর যাত্রী। তারা কক্সবাজার থেকে ফিরছিলেন। তাদের মধ্যে চালক ছাড়া বাকিরা একই পরিবারের সদস্য হতে পারে বলে ধারণা করছি। স্বজনরা আসার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত সোম ও গত মঙ্গলবারও পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ তরুণ নিহত হন এবং নয় জন আহত হন। গত মঙ্গলবার ভোররাতে পর্যটকবাহী দুটি মাইক্রোবাস উল্টে নয় জন আহত হন।
যে কারণে চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কে বারবার দুর্ঘটনা: চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত তিন দিনে তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন নিহতসহ কমপক্ষে ২৬ জন আহত হয়েছেন। একই স্থানে পর পর তিনটি দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। খেঁাজা হচ্ছে দুর্ঘটনার কারণ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটি সরু এবং ওই এলাকায় বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এছাড়া ট্রাকে লবণ পরিবহণ করার কারণে সড়কটি পিচ্ছিল থাকে। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত তিন দিনের দুর্ঘটনার সবকটি ঘটে সকাল বেলা। এর মধ্যে সোমবার সকালে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ তরুণ নিহত হন, আহত হন ৯ জন। গত মঙ্গলবার ভোরে পর্যটকবাহী দুটি মাইক্রোবাস উল্টে ৯ জন আহত হন। গতকাল বুধবার সকালে বাস মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত এবং পাঁচ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ২০ বছরেও এ সড়ক প্রশস্ত করা হয়নি। সরু এই সড়কে আছে বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁক। সড়কটি চার লেন কিংবা ছয় লেন করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো না। অথচ সরকার এ সড়কের উন্নয়নে এগিয়ে আসছে না। লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রাখাল চন্দ্র রুদ্র বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত তিন দিনে একই স্থানে তিনটি দুর্ঘটনা ঘটে। তিনটি দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। তিনি বলেন, এসব দুর্ঘটনার জন্য আমরা বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছি। এ সড়কে ট্রাকে লবণ পরিবহন করা হয়। লবণ পানি সড়কে পড়ে পিচ্ছিল হয়। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ওই এলাকায় এ সড়কে আছে বিপজ্জনক বাঁক, অন্য জেলার চালকদের এ সড়কে গাড়ি চালনোর অভিজ্ঞতা না থাকাসহ নানা কারণে এখানে বার বার দুর্ঘটনা ঘটছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি শুভরঞ্জন চাকমা বলেন, চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার যে স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি অত্যন্ত ঢালু। ভোরে সড়কে যানবাহন কম থাকে। ওই সময় ফ্রি রুটে যানবাহনের গতি থাকে বেশি। যেসব চালক নতুন তাদের এ সড়ক সম্পর্কে ধারণা থাকে না। যে কারণে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক যে ঢালু অবস্থায় রয়েছে তা সংস্কার প্রয়োজন। এত দুর্ঘটনার পরও সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ বিষয়ে কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তৌফিকুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কে বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁক আছে। এরমধ্যে জাঙ্গালিয়া এলাকায়ও একটি বড় বাঁক রয়েছে। গাড়ি ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসছে কিনা দেখা যায় না। এ কারণে মূলত দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, লবণ পানির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকে। এছাড়াও সকালে কুয়াশার কারণেও ভেজা থাকে সড়ক। এসব কিছুকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও যানবাহনের তুলনায় চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কটি সরু। এ কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, চট্টগ্রাম—কক্সবাজার মহাসড়কটি প্রশস্ত করার একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে আছে। সড়ক প্রশস্ত করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।