আলমগীর হোসেন দিঘলিয়া থেকে \ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। যাদের অবস্থা সংঙ্কটাপূর্ণ, তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপর নির্ভর না করে, উন্নত চিকিৎসার আশায় শহরকেন্দ্রিক হাসপাতাল গুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেক অসুস্থ রোগীরা জ্বর হওয়ার সাথে সাথে স্বভাবসুলভ ভাবে ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন জ্বরের ওষুধ কিনে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। আর এই জন্যই আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু আতঙ্ক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অবশ্য নভেম্বরের শেষ দিকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কিছুটা কমতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাড়ির আশেপাশে ডোবা, ঝোপঝার, বৃষ্টিতে পানি জমে থাকা, ময়লা আবর্জনা সহ বিভিন্ন পরিবেশ ডেঙ্গু মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিমত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য উপজেলা পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে কার্যকর কোন গৃহীত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা এই ব্যাপারে তাদের জানা নেই। এদিকে শহরগুলোতে কীটনাশকের সরবরাহ থাকলেও দিঘলিয়া উপজেলার কোথাও এর ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়নি। এ অবস্থায় দিঘলিয়া উপজেলায় ডেঙ্গুর গন্তব্য কোথায় গিয়ে থামবে সেটি স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এদিকে খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা উপজেলা পরিষদ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা গুলোই মশাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা সন্ধ্যার পর থেকেই মশারির নিচে বসে পড়ালেখা করে। সদর ইউনিয়নের এক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে জানা গেল স্কুল প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ দানের পাশাপাশি ডেঙ্গুতে সতর্কতা ও করণীয় কার্যক্রমের ব্যাপারে তাদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে না। অপরদিকে শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বারবার বলার পরেও শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে পরিবারের সাথে পরামর্শ করছে না। এমনকি তারা নিজেরাও এটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত জনবল সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকটা হিমশিম হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে বারবার অবগত করা সত্তে¡ও সারা মিলছে না। উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, তাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এরূপ পরিস্থিতিতে সকলকে একসাথে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করছেন বিশিষ্ট্যজনেরা।