রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অসংক্রামক ব্যাধির বিস্তারে বাড়ছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও গণভোট নয়, শুধু সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন মিয়ানমার সীমান্তের গোলাগুলিতে টেকনাফে শিশু নিহত, আরেক শিশু গুলিবিদ্ধ সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সমস্যা দেখছি না ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক মোছাব্বির হত্যা ব্যবসাকেন্দ্রীক হতে পারে: ডিবি জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারির সাক্ষাৎ নির্বাচনের পর মার্চের শেষে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে বৈধতা পেলেন ৫৮ প্রার্থী, নামঞ্জুর ৭

দেশে প্রতি বছর লাখে ৫৩ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়: বিএসএমএমইউ’র গবেষণা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

এফএনএস: দেশে মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী। মৃত রোগীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফুসফুস, শ্বাসনালী ও পাকস্থলীর ক্যানসার। বছরে নতুন করে প্রতি লাখে ৫৩ জন রোগী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ফুসফুস, লিভার ও শ্বাসনালীর ক্যানসারের রোগীর সংখ্যা বেশি। গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহত্তর গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশে ক্যানসারের বোঝা: জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, নিত্য নতুন জ্ঞান তৈরিতে গবেষণার বিকল্প নাই। বিএসএমএমইউ থেকে সেই গবেষণাই পরিচালনা করা উচিত, যা রোগীদের কল্যাণে কাজে আসে, যেসব গবেষণা দেশের মানুষের, রোগীদের উপকার হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, গণ—আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে এমন গবেষণার জন্য ফান্ডের কোনও সমস্যা হবে না। বিএসএমএমইউর উদ্যোগে পরিচালিত বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি থেকে যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তা দেশের মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ, প্রতিকার ও ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখবে। এসঙ্গে এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশে ক্যানসার নিয়ে গবেষণার বহুমুখী দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রধান গবেষক পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান জানান, ক্যানসার বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর একটি। বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন (পিবিসিআর) না থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর তথ্য ব্যবহার করে ক্যানসারের পরিস্থিতি অনুমান করতে হয়। এর ফলে বাংলাদেশে ক্যানসারের সঠিক পরিস্থিতি জানার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা আছে। তাই জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বা বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্যানসারের পরিস্থিতি নির্ণয় করা জরুরি হয়ে পড়েছিল, এজন্যই এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে এ গবেষণা শুরু হয়। এই গবেষণায় প্রতিটি বাড়িতে বিশেষভাবে তৈরি করা ইন্টারনেট ভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন সফটওয়্যার করে সাক্ষাৎকার নেওয়ার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এক বছর পূর্তিতে একই পরিবারের ফলোআপ পরিদর্শন ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়েছে। ড. মো. খালেকুজ্জামান জানান, ২ লাখ মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। বাংলাদেশে ৩৮ ধরণের ক্যানসারের রোগী পাওয়া গেছে। প্রতি লাখে ১০৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। ৯৩ শতাংশ রোগীর বয়স ১৮ থেকে ৭৫ বছর। ক্যানসার রোগীদের মধ্যে ২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুরা রয়েছে। ৫ দশমিক ১ শতাংশ রোগীর বয়স ৭৫ বছরের বেশি। বাংলাদেশে ৫টি প্রধান ক্যানসার হলোÍ স্তন, মুখ, পাকস্থলী, শ্বাসনালী এবং জরায়ু মুখের ক্যানসার। পুরুষদের ৫টি প্রধান ক্যানসার হলোÍ শ্বাসনালী, পাকস্থলী, ফুসফুস, মুখ ও খাদ্যনালী। নারীদের ৫টি প্রধান ক্যানসার হলোÍ স্তন, জরায়ুমুখ, মুখ, থাইরয়েড এবং ওভারি। ৪৬ শতাংশ রোগীর ক্যানসারের সঙ্গে তামাক সেবনের সম্পর্ক রয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ কমবাইন্ড চিকিৎসা নিয়েছে এবং ৭ দশমিক ৪ শতাংশ রোগী কোনও চিকিৎসাই নেয়নি। অনুষ্ঠানে বর্তমান জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি স্থায়ী করার জন্য জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনটি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া ও গবেষকদের বর্তমান রেজিস্ট্রি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ক্যানসার গবেষণা চালাতে উৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়। এই গবেষণায় অর্থায়ন করে এনসিডিসি, ডিজিএইচএস এবং বিএসএমএমইউ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ভাইস—চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ—উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ—উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল হক।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com