আবু তালেব মোল্ল্যা \ পঁচাত্তর সালের সিপাহী বিপ্লবের পর, দেশবাসির আস্থা বিশ্বাস আর উন্নয়নের রুপকার হিসেবে আর্বিভূত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময়ে মজলুম জননেতা বাংলার মুকুটহীন স¤্রাট খ্যাত মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি উক্তি ছিল, উপদেশ ছিল বাংলাদেশকে চীনমুখি করার, সেদিনের রাষ্ট্রপতি চীন মুখি হয়েছিলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতায় অভূতপূর্ব উন্নতির স্পর্শে আসে বাংলাদেশ। দীর্ঘপথ পরিক্রমায় বঙ্গোপসাগরে পানি যেমন গড়িয়েছে জাতীয় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত এবং শাসক শ্রেণির দেশবিরোধী হিসাব আর ক্ষমতায় থাকার অনৈতিক লোভ লালসায় চীন থেকে কখনও দুরে সরেছে আবার দ্বৈত সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেছে। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রতিবেশী দেশের ফারাক্কায় মরণযন্ত্রণায় শুকিয়েছে কিন্তু চীনের সহযোগিতার আশ্বাস থাকা স্বত্বেও চিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ করা হইনি ভিন্ন দেশীদের স্বার্থ রক্ষাকল্পে। গত জুলাই আগস্ট বিপ্লবের পর পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার যেমন বিদায় নিয়েছে অনুরুপভাবে দেশের স্বার্থ, ভূরাজনীতি এবং বহি:বিশ্বের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের দেশের স্বার্থ রক্ষার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা চারদিন ব্যাপী চীন সফর শেষ করেছে। এই সফর দৃশ্যত দেশকে নতুন আঙ্গিকে নিয়েছে, নব দিবগন্তের ক্ষেত্র বিস্তৃত করেছে। চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যা অভাবনীয়, অনন্য, অসাধারণ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুসের চীন সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যেমন দৃষ্টি ছিল অনুরুপভাবে প্রতিবেশী এই সফর নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছিল। ভারতীয় মিডিয়া গুলো দৃশ্যত: ড. মুহম্মদ ইউনুসের সমালোচনায় মুখর ছিল, পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত ড. মুহম্মদের সমালোচনার ভিতরেই লুকায়িত তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর এবং চীন সফর দেশের জন্য মঙ্গলজনক এবং মর্যদাকর। দেশবাসির ইচ্ছা আর প্রত্যাশার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছে চীন। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের পিপর্লস গ্রেট হলে উষœ অভ্যর্থনা জানালো চীন। পতাকাবাহী যান থেকে নেমে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা লাল গালিচায় হেঁটে গ্রেট হলে প্রবেশ পরবর্তী স্বয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তাকে অভ্যর্থনা জানান। এই সম্মান বাংলাদেশের। বিশ্ববাসি প্রত্যক্ষ করলো বাংলাদেশকে কতটুকু সম্মান জানালো চীন, গ্রেট হলে দুই নেতা বৈঠক করছেন। বাংলাদেশের সাথে ৯টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে চীনা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্থ করেছেন সে দেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শরিফুল আলম চীন সফর সম্পর্কে বলেছেন চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। বাংলাদেশ যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছেন, চীন সেসব বিষয়ে ইতিবাচক বিবেচনা করবে বলে আশ্বস্থ করেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখা, চীনের ঋণের সুদের হার হ্রাস এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। চীন সফরে বাংলাদেশের অর্জন অনেক অনেক বেশি, আলোচনায় দুই পক্ষ ব্যাপকভাবে ঐক্যমতে পৌঁছায়। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এই সফর সমৃদ্ধির, উন্নয়নের আর মর্যাদার নতুন বাংলাদেশের হাতছানি দিচ্ছে।