এফএনএস বিদেশ : ফিলিপাইনের একটি এফএ—৫০ যুদ্ধবিমান ও দুই ক্রু সদস্য নিখেঁাজ রয়েছেন। তারা দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলে কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে স্থল বাহিনীর সহায়তায় অভিযানে অংশ নিয়েছিল। দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল কনসুয়েলো ক্যাস্তিলো বলেন, যুদ্ধবিমানটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে ‘ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে’ উড়ছিল এবং ‘স্থল বাহিনীর সহায়তায় রাত্রিকালীন কৌশলগত অভিযানের’ সময় এটি নিখেঁাজ হয়। পাশাপাশি মিশনের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল লুই ডেমা—আলা নিশ্চিত করেছেন, নিখেঁাজ এফএ—৫০ বিমানটি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিন্দানাওয়ের বুকিদনন প্রদেশে অভিযানে অংশ নেওয়া একটি স্কোয়াড্রনের অংশ ছিল। এ ছাড়া চতুর্থ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফ্রান্সিসকো গারেলো জানান, এক পাহাড়ি এলাকায় নিউ পিপলস আর্মির (এনপিএ) বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলাকালে বিমান দিয়ে সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, ‘৪০৩তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল, তখন বিমানবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয় এবং তারা অভিযানে সহায়তা করে।’ দীর্ঘদিনের মাওবাদী বিদ্রোহে এখন আনুমানিক দুই হাজারেরও কম গেরিলা যোদ্ধা অবশিষ্ট রয়েছে বলে মনে করা হয়।
স্থানীয় অনুসন্ধান অভিযান
এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিলিপাইন বিমানবাহিনী (পিএএফ) জানায়, নিখেঁাজ বিমানটি লক্ষ্যবস্তুর এলাকায় পেঁৗছনোর কয়েক মিনিট আগে স্কোয়াড্রনের অন্য বিমানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও বিমানবাহিনী এখন পর্যন্ত বিমানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখেঁাজ হিসেবেই ঘোষণা করেছে, তবে বুকিদনন প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা রামিল গুলাহাব জানান, স্থানীয় বন রক্ষীদের দিয়ে সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আজ রাতেই দুটি দল পাঠানো হবে। তারা মাউন্ট কিলাকিরোন (দুই হাজার ৩২৯ মিটার) ও মাউন্ট কালাতুঙ্গান (দুই হাজার ৮৮০ মিটার) এলাকায় অনুসন্ধান করবে।
দ্বিতীয় স্থানটি ফিলিপাইনের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত। তিনি আরো জানান, সিগন্যাল যেখানে হারিয়ে গেছে, সেখানেই অনুসন্ধান চালানো হবে। তিনি একজন রিজার্ভ সেনা সদস্য হওয়ায় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। বিমানগুলো মাকতান—বেনিটো এবুয়েন বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল, যা ফিলিপাইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেবুর বিমানবন্দরের সঙ্গে রানওয়ে ভাগ করে নেয়। পিএএফ মুখপাত্র ক্যাস্তিলো সাংবাদিকদের জানান, এটি বিমানবাহিনীর এফএ—৫০ স্কোয়াড্রনের ‘প্রথম বড় ধরনের দুর্ঘটনা’, যা এর আগে বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। ফিলিপাইনের কাছে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কেনা ১২টি এফএ—৫০ যুদ্ধবিমান রয়েছে। ক্যাস্তিলো বলেন, ‘আমরা এখনো আশা করছি, বিমান ও ক্রুদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে। আমরা এখনো খুবই আশাবাদী যে তারা নিরাপদ রয়েছে।’
মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা
এফএ—৫০ যুদ্ধবিমানগুলো মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে যৌথ বিমান টহলে অংশ নিয়েছিল, যেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ফিলিপাইনও জড়িত ছিল। চীন এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমার প্রায় সম্পূর্ণ অংশের ওপর মালিকানা দাবি করে, যেখানে বছরে ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য পরিবহন হয়। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের এক রায়ে চীনের দাবি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারার জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ফিলিপাইন সরকার ১২টি নতুন এফএ—৫০ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিপাইনের সামরিক বিমানের একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে রাজধানী ম্যানিলার দক্ষিণে একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট উড্ডয়নের সময় নৌবাহিনীর একটি রবিনসন আর২২ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হন। তার আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মারকেটি এসএফ২৬০ টার্বোপ্রপ বিমান একটি ধানক্ষেতে বিধ্বস্ত হয়ে বিমানবাহিনীর দুই পাইলট মারা যান।