এম. আবু ইদ্রিস \ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯ টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি ফেস্টুন, বেলুন ও শান্তির প্রতিক পায়রা উড়িয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে উপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, শাসন শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার আপামর জনগণ ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা করেছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলার অনেক সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাদের স্মৃতিচারণ করে স্বাধীনতার পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন দেশ স্বাধীন হলেও দেশের মানুষ স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারেনি। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ বিভিন্নভাবে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কিন্তু তরুণ ছাত্র সমাজ ও জনতার জুলাই বিপ্লবের (২০২৪) মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন হয়। আজ আমরা নতুনভাবে নতুন রূপের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি। পুলিশ, আনসার, রোভার স্কাউট সহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শনপরবর্তী জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মাঠ মার্চ পরিদর্শন করেন। এর আগে অনুষ্ঠানমালার অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পণ, শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতিফলক উন্মোচন ও শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের মাজার জিয়ারত ও রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল চৌধুরী নাবিদ রিফাত মঞ্জুর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুকিত হাসান খাঁন, সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও বিভিন্ন পদমর্যাদার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ। এছাড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রাহমাতুল্লাহ পলাশ, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান বাবু, বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাক্তার আবুল কালাম বাবলা, জেলা জামাতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবী, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সমাপ্তি হয়।