এফএনএস বিদেশ : ভারতের লোকসভায় ৫৬ ভোটের ব্যবধানে পাস হলো সংশোধিত ওয়াকফ বিল। ২৮৮ জন সদস্য বিলের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে দেন ২৩২ জন। এর আগে লোকসভায় বিলটি পেশ করেন সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থানের কথা ব্যাখ্যা করেন অমিত শাহ। এই ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল ১৯৯৫—এর ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন সংশোধন করবে। ২০১৩ সালেও এই আইনের সংশোধন হয়। মনমোহন সিং—এর মন্ত্রিসভায় বিনা বিতর্কে সর্বসম্মতিতে সেই বিল পাস হয়। এখন বিতর্ক এই বিলটির পিছু ছাড়ছে না। সংশোধিত বিল অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিলে ও ওয়াকফ বোর্ডে দুই জন মুসলমান নন এমন সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও সম্পত্তি প্রদানের আরেকটি প্রাথমিক শর্ত হলো, অন্তত পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলে একমাত্র ওয়াকফকে সম্পত্তি দেওয়া যাবে। যদিও দেশটির বিরোধীরা এই বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী ইন্ডিয়া জোট এক হয়ে এই বিলের বিরোধিতা করেছে। তারা সংশোধিত বিলটিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি বা জেপিসি বিরোধীদের মতামতে কর্ণপাত করেনি। কংগ্রেস জানিয়েছে, সরকার সংখ্যালঘুদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এআইএমআইএম—এর আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানান, তিনি প্রতীকী পদক্ষেপে মহাত্মা গান্ধীর অনুসরণে এই আইন ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানালেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে যখন লালকৃষ্ণ আডবানি, সুষমা স্বরাজের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে বিলের সংশোধনী পাস হয় তখন কোনো বিতর্ক হয়নি। তার প্রশ্ন, তারা কি ভুল ছিলেন? অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সংসদ সদস্য অরবিন্দ সাওয়ন্ত ওয়াকফ বোর্ডে অ—মুসলমান সদস্য ও ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের সিইও পদে আমলা নিযুক্ত করার সমালোচনা করে বলেছেন, সরকার কি মন্দির কমিটিতে অ—হিন্দুদের থাকার অনুমতি দেবে? সরকার দাবি, এই বিলটি সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন সংশোধন করবে। এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহ একটি ওয়াকফ সম্পত্তির একটি দীর্ঘ তালিকা দেখান। কিরণ রিজিজু বলেন, আমরা যদি আজ এই আইনের সংস্কার না করি তাহলে যেখানে এই বিতর্ক হচ্ছে, সেই সম্পত্তি ওয়াকফের কাছে চলে যাবে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে, এনডিটিভি