ধূলিহর প্রতিনিধি \ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর ও ফিংড়ী ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মানুষ চুরি, ছিনতাই ও মাদকাসক্তদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে চুরির আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গত ১ বছরে ধুলিহর ব্রহ্মরাজপুর ও ফিংড়ী ইউনিয়নের প্রায় ৯০টি গ্রামের ৩শতাধিক ব্যক্তির বাড়িতে চেতনা নাশক স্প্রে দিয়ে পেশাদার অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বাড়ির সবাই কে অজ্ঞান করে বাড়িতে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস পত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এসব ঘটনায় থানায় দুই একটি চুরির মামলা হলেও অধিকাংশ ঘটনায় মামলা হয়না।দিনের পর দিন হরহামেশাই যত্রতত্র চেতনা নাশক স্প্রে দিয়ে লুট করার ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার কিংবা লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া আরও শতশত বাড়িতে ছিঁচকে চুরির ঘটনা ঘটলেও সেগুলো আর আলোর মুখ দেখিনি। ১৯মার্চ বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বালুইগাছা গ্রামের আরশাদ আলীর বাড়িতে কে বা কারা চেতনা নাশক স্প্রে দিয়ে বাড়ির সবাইকে অজ্ঞান করে বাড়ির শোকজের তালা ভেঙে নগদ সাড়ে চার লক্ষ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া অতি সম্প্রতি বালিথা গ্রামের কাঞ্চনের বাড়িতে ১ মাসের ব্যবধানে ২বার, ফিংড়ী গ্রামের আনারউদ্দীন হাজীর পুত্র রেজাউল ইসলামের বাড়িতে, ব্রহ্মরাজপুর সাহা পাড়ার গোপাল সাহা ও গীতাদাশ সাহার বাড়ি, কাজীর বাসা গ্রামের প্রবাসী রশিদুল ইসলামের বাড়িতে, কোমরপুর গ্রামের সাবেক বাংকার মফজুলার রহমানের বাড়িতে, চাঁদপুর গ্রামের খলিল মাষ্টারের বাড়িসহ অসংখ্য মানুষের বাড়িতে চেতনা নাশক স্প্রে দিয়ে বাড়ির সবাই কে অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস পত্র লুটপাট করা হলেও অদৃশ্য কারণে প্রত্যেকটি ঘটনা ক্লুলেস রয়ে গেছে। অথচ প্রতিটি ঘটনা একই কায়দায় ঘটলেও আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও পুলিশ কোন ক্লু উদ্ধার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় যত্রতত্র হরহামেশাই চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে। সম্প্রতি ধুলিহর সানাপাড়া এলাকার একটি চিহ্নিত পেশাদার কিশোর গ্যাং চক্র প্রতিদিন প্রকাশ্য স্থানীয় পুলিশ ফাড়ীর নাকের ডগায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটালেও পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কিশোর গ্যাং এর একজন সদস্য জানান—ফাড়ীর ইসমাইল স্যার আমাদের সম্পর্কে সব জানে। আমরা ভালো কি খারাপ স্যারের সাথে কথা বললে জানতে পারবেন। একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ এসআই ইসমাইল হোসেন ফাড়ীতে যোগদানের পর থেকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। চুরি ও ছিনতাই আতংকে রাত জেগে বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে এলাকায় পাহারা দিচ্ছে। এছাড়া ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এস আই ইসমাইলের সখ্যতা থাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। মাদকাসক্ত যুবকরা মাদকের টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন রকম অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এব্যাপারে এসআই ইসমাইল হোসেন জানান— সব বিষয় আমি দেখে পারি, আমি তো ওসি না। আপনার কিছু জানার থাকলে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন। অপরদিকে, একটি দ্বায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে, এসআই ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ীর দ্বায়িত্বে থাকার কারণে এসব পেশাদার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ চক্রের সদস্যদের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সচেতন এলাকাবাসী অবিলম্বে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।