এফএনএস বিদেশ : মিয়ানমারে কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ ভ‚মিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৩৩০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জান্তা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এ অবস্থায় দুর্যোগ কবলিত দেশটিকে সাহায্য করার জন্য বিশ্বকে নতুন করে আহŸান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাহায্য প্রধান। গতকাল শনিবার প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান অনুসারে,২৮ মার্চের ভ‚মিকম্পের পর মৃতের সংখ্যা ৩৩৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে ৪৫০৮ জন আহত এবং ২২০ জন নিখোঁজ রয়েছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরেও দেশটির অনেক মানুষ এখনো আশ্রয়হীন। কেউ কেউ তাদের বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে বাইরে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছে, অনেকেই আবার ভ‚মিকম্পের ভয়ে ভবন ধসের আশঙ্কায় রয়েছে। জাতিসংঘের এক অনুমান অনুযায়ী, ৭.৭ মাত্রার এই ভ‚মিকম্পে ত্রিশ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি চার বছরের গৃহযুদ্ধের ফলে সৃষ্ট পূর্ববর্তী চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছে। গতকাল শনিবার জাতিসংঘের শীর্ষ সাহায্য কর্মকর্তা মায়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেছেন। অঞ্চলটি ভ‚মিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত এবং শহরজুড়ে তীব্র ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি এক্স-পোস্টে লিখেছেন, ‘ধ্বংস বিস্ময়কর। বিশ্বকে অবশ্যই মিয়ানমারের জনগণের পেছনে দাঁড়াতে হবে।’ এদিকে, চীন, রাশিয়া, ভারত, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ প্রথম দেশগুলোর মধ্যে ছিল – যারা ভয়াবহ দুর্যোগে মিয়ানমারে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে জীবিতদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহ্যগতভাবে আন্তর্জাতিক দুর্যোগের সময় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির মানবিক সহায়তা সংস্থাটি ভেঙে দিয়েছেন। তারপরও শুক্রবার ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারকে আগের ২০ লাখ ডলারের সহায়তার পাশাপাশি আরও ৭ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে।