এফএনএস: মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের রেশ এসে পড়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও। কক্সবাজারের টেকনাফে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু নিহত হয় এবং আরেক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়কের একটি অংশ অবরোধ করেন। ঘটনাটি ঘটে গতকাল রোববার সকালে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ ও আশপাশের এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল থেকেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছিল। একপর্যায়ে সেখান থেকে ছোড়া গুলি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ অংশে এসে পড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শিশু আফনান। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে। একই ঘটনায় বাড়ির উঠানে খেলার সময় আপনা আকতার নামে আরেক শিশু মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আপনা আকতার হোয়াইক্যং লম্বাবিলের হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের সময় ছোড়া গুলিই এই হতাহতের কারণ। তিনি বলেন, “সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির মধ্যে একটি গুলি এসে বাংলাদেশ অংশের একটি বসতঘরে লাগে। এতে এক শিশু নিহত হয়।” নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সড়কে নেমে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হাফিজ নাদিম গণমাধ্যমকে জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলির কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরেই সীমান্তের ওপারে রাখাইন অঞ্চলে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।