বিশেষ প্রতিনিধি \ শ্যামনগর উপজেলায় উপজেলা ছাত্রলীগের বিবাদমান দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১৭জন আহত হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ২ টার দিকে উপজেলা সদর গোপালপুর এলাকায় ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটি নিয়ে পদ বঞ্চিত রাজু মন্ডল ও সদ্য গঠিত কমিটির সভাপতি আব্দুল হাকিম সবুজ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রাজু মন্ডল, রঞ্জু, বিলাল হোসেন, সুরেশ মন্ডল, শরিফুল ইসলাম ও হাসানুজ্জামান রিটনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিনা উস্কানীতে নিজেদের উপর হামলা চালানোর দাবি করে উভয় পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে। উলেখ্য প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির পর চলতি সপ্তাহে শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়। আব্দুল হাকিম সবুজকে সভাপতি ও মাহাবুব বাবুকে সদ্য গঠিত কমিটির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদমান এ দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হাকিম সবুজ জানান, কমিটি ঘোষনার পর মঙ্গলবার এলাকায় ফিরলে উপজেলার বিভিন্ন অংশ হতে কর্মী সমর্থকরা তাকে শুভেচ্ছা জানায়। বেলা দুইটার দিকে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে গোপালপুর এলাকায় পৌছালে রাজুর নেতৃত্বে ২৫/৩০ জন তার উপর হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা তাদের ব্যবহৃত কয়েকটি মটর সাইকেল ভাংচুর করে বলেও তিনি দাবি করেন। হামলার ঘটনায় তার ৮ জন কর্মী সমর্থক আহত হলেও এক যুবলীগ নেতাসহ তিনজনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আহত রাজু মন্ডল জানায় কর্মী সমর্থক বেষ্ঠিত হয়ে আব্দুল হাকিম সবুজ দুপুরের পর শো-ডাউন নিয়ে গোপালপুর এলাকায় যায়। এসময় তার (সবুজ) সাথে থাকা বহর থেকে কর্মী সমর্থকসহ তাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা হয়। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে সবুজের নেতৃত্বে তার সাথে থাকা ৩০/৩৫ কর্মী সমর্থক তাদের উপর হামলা করে। হামলাকারীদের হাতে বৃদ্ধ পিতাসহ ও সে নিজেসহ তার ৭ কর্মী সমর্থক মারাত্বকভাবে আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রাজু আরও জানায় তার বাবা দীর্ঘ তিন দশক ধরে সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ালীগের সভাপতি। হামলার সাথে জড়িতরা তার বৃদ্ধ বাবাকে পর্যন্ত রেহাই দেয়নি দাবি করে তিনি বলেন তাদের বসত ঘরও ভাংচুর করা হয়। এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। দু’পক্ষ লিখিত অভিযোগে ভিত্তিতে উভয় পক্ষের মামলা হয়েছে। গোপালপুর গ্রামের মৃত কালিপদ’র পুত্র সুরেশ মন্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা করে।যার নং-২৭। অপর মামলার বাদী ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সোনামুগারী গ্রামের মাহাবুর রহমানের পুত্র আব্দুল হাকিম সবুজ। যার নং-২৮।