দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ সিয়াম সাধনা আর সংযমের মাস রমজান। সারাদিন পানাহার হতে বিরত থাকা রোজাদারদের জন্য ইফতার বিশেষ রহমত। ইফতারের ভাল খাবার, পুষ্টি আর স্বাদে খাদ্য সামগ্রীর চাহিদা রোজাদারগনের অন্যতম চাহিদা, বাসা বাড়ীতে ইফতার সামগ্রী শেষ কথা নয়, মুখরোচক আর ভিন্ন ভিন্ন সাদের এবং বাহারী ইফতারীর জন্য বাজার মুখি হয় রোজাদারদের বৃহৎ অংশ। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় রোজার শুরুতে শহরের মোড়ে মোড়ে ইফতার বাজারের দীর্ঘ দিনের আয়োজন চলমান। শহরের পাশাপাশি মফস্বল এলাকাগুলোতেও বাহারী সব ইফতারী পরসা সাজিয়ে বিক্রেতারা বিক্রয় করছে। সাতক্ষীরার ইফতার বাজারে খাদ্য সামগ্রীর সামান্যতম ঘাটতি নেই, সব ধরনের ইফতারীর উপস্থিতি ইফতার বাজার জমজমাট তবে বাস্তবতা হলো মূল্য বৃদ্ধির পাগলা ঘোড়ার ছুটে চলার কারনে কাঙ্খিত ক্রেতাদের অনুপস্থিতি। গত দুই দিন ইফতার বাজার ঘুরে দেখা গেছে পেয়াজু, ডিমের চপ, বেগুনী, আলুচপ, মাংসের চপ, শরবত, ফিন্নি, হালিম, বিভিন্ন ধরনের কাবাব, কাঠি কাবাব, জালি কাবাব, ফালুদা, সব ধরনের ইফতারীর সৌন্দর্যময় উপস্থিতি ক্রেতা সাধারন কে আকর্ষন করলেও অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারনে সাধ আর সাধ্যের সীমাবদ্ধতা ক্রেতা সাধারনকে হতাশাই করছে। গত বছরের তুলনায় ইফতার সামগ্রীর মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, সাতক্ষীরার কয়েকটি এলাকায় বিশেষ করে শহরের একাধিক হোটেল রেস্তরা সাহী জিলাপি তৈরী করে, এবছর সাহী জিলাপির আকার অপেক্ষাকৃত কম এবং মুল্য গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বেশী, প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের চপের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্রেতারা জানান ব্যাসন, এবং তেলের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সাথে ডিমের ও মাংসের মুল্য বেড়ে যাওয়ায় সঙ্গত কারনে ইফতারী সামগ্রীর মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতারীতে খেজুরের জুড়ির শেষ নেই, সারা দিন রোজা পালন শেষে ইফতারীর অন্যতম অংশ হিসেবে খেজুরের চাহিদা সর্বাধিক। এবছর সব ধরনের খেজুরের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খেজুর বাজারেও ক্রেতা সংকট। যার যে টুকু প্রয়োজন কেবল মাত্র সেই টুকুই ক্রয় করছে। মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফলের সমাহার রোজাদারদের কাঙ্খিত চাহিদার ক্ষেত্র। কিন্তু ফলের বাজার ও উর্ধমুুখি পানিবর্ধক হিসেবে তরমুজের জুড়ি নেই। বাজারে বর্তমান সময়ে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তরমুজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে কমলা, আঙ্গুর, আপেল, ছবেদা, পাকাকলা সব কিছুরই মূল্য আকাশ ছোয়া। এক শ্রেনির ক্রেতারা কয়েক দিনের বাজার এক সাথে করায় সেই সাথে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের চাহিদাকে পুজি করে পন্যের মুল্য বৃদ্ধির অসম প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সাতক্ষীরার ইফতার বাজারে মুখ রোচক খাবার কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত সে বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন। সাতক্ষীরার ইফতার বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ, এতিম খানা, ও প্রতিষ্ঠান গুলো যে সকল স্থানে এক সাথে অধিক সংখ্যক রোজাদাররা ইফতারী করে সেই সকল স্থান পরিদর্শনে দেখা গেছে মূল্য বৃদ্ধির কারনে বাহারী বা ব্যাপক পরিমান ইফতারীর উপস্থিতি কম, তারপরও একে অপরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মহব্বত আর আন্তরিকতার সাথে ইফতারী করছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ দৃষ্টিপাতকে জানান আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইফতার বাজার সহনশীল তথা মুল্য কম হতে পারে। দিনে দিনে চাহিদা সহনশীল তথা মূল্য কম হতে পারে। দিনে দিনে চাহিদা পুরন হচ্ছে। ইফতার বাজার ক্রেতা সাধারনের সাধ্যে থাকুক এমন প্রত্যাশা রোজাদারদের।