একদিকে আইন অমান্য অন্যদিকে ক্রেতা বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্থ
দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ পণ্য ওজনের মাধ্যম হিসেবে ওজন পরিমান, এর বিকল্প নেই। মালামাল, দ্রব্য সামগ্রীর পরিমাপে দেশের আইনে ডিজিটাল ওজন ব্যবসা একমাত্র মাধ্যম। দেশের সর্বত্র ডিজিটাল ওজনই শেষ কথা। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় বাজার ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নির্ভেজাল ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা কোন কোন এলাকায়, কোন কোন পণ্য সামগ্রী ওজনের ক্ষেত্রে অনুপস্থিতি যা প্রবর্তিত ওজন ব্যবস্থার ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন সহ আইন না মানার প্রবনতা হিসেবেই দেখছেন ভোক্তা সাধারন সহ বিক্রেতারা। শহরের মুদি বাজার হতে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের সবজি বাজার সর্বত্র ডিজিটাল ওজনের ব্যবহার। কিন্তু জেলার কয়েকটি মৎস্য আড়তে রপ্তানী যোগ্য বাগদা, গলদা চিংড়ী ক্রয় বিক্রয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে সনাতন পদ্ধতির কাঠের, লোহার সুতলী বেষ্টিত দাঁড়িপালা। আশাশুনির মৎস্য সেড গুলোর কতক সেডে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ও কতক সেডে সনাতন পদ্ধতিতে ওজন হচ্ছে। কালিগঞ্জের মৎস্য সেডগুলো ও শ্যামনগরের নূরনগর, সোনার কলবাড়ী, নোয়াবেকী এবং দেবহাটার পারুলিয়া গাজীরহাট, কুলিয়া ও সুবর্ণাবাদ মৎস্য সেডে ব্যবহৃত হচ্ছে সনাতন পদ্ধতির দাঁড়িপালা। এখানেই শেষ নয় উলেখিত মৎস্য আড়তগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সাদা প্রজাতির রুই, কাতলা, মৃগেল, ভেটকি, পারসা, হরিনা, চামনি সহ সব ধরনের মাছ ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে সনাতন পদ্ধতিতে। অথচ ছোট প্রজাতির সাদা মাছ ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল ওজনের ক্রয় করে জলাশয়ে, পুকুরে ও ঘেরে অবমুক্ত করছে। এক শ্রেনির ক্রেতা ও বিক্রেতারা বিশেষ সুবিধার ক্ষেত্র বিস্তৃত করনে, অসাধুতাকে সঙ্গী রাখতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাহীন হয়ে ডিজিটাল ওজন পরিমাপ ব্যবহার হতে বিরত থাকছে। বাস্তবতা হলো ডিজিটাল ওজনে প্রকৃত ওজন স্পষ্ট হয় এ ক্ষেত্রে সামান্যতম কারচুপির সুযোগ থাকে না আর এটাই এক শ্রেনির ব্যবসায়ীর জন্য সমস্যা সে কারনেই মৎস্য আড়ত গুলোতে চলছে আইন না মানার প্রতিযোগিতা, একই বাজারে মৎস্য আড়ত এবং খুচরা মাছ বাজার, মৎস্য আড়তে চলছে দাঁড়িপালায় ওজন এবং খুচরা মাছ বাজারে চলছে ডিজিটাল ওজন। সাতক্ষীরা শহরের বড় বাজারে মৎস্য আড়তে ডিজিটাল ওজনে সব ধরনের মাছ ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে। সেখানে ক্রেতা বা বিক্রেতা উভয় ওজন প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাচ্ছে, ওজন এবং মূল্য উভয়ই ভেসে উঠছে। শহরতলীর বৃহৎ মৎস্য আড়ত বিনেরপোতাতে ও ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা বিদ্যমান। সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া, গাজীরহাট সহ অপরাপর এলাকার মৎস্য আড়ৎ গুলোতে ডিজিটাল ওজন পদ্ধতির পরিবর্তে সনাতন পদ্ধতির ওজন বিদ্যমান থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা বিভাগীয় বিএসটিআই উপপরিচালক মোঃ মোন্নাফ হোসেন বলেন যে বা যারা ডিজিটাল ওজন ব্যবহার করবে না তা অবশ্যই তারা আইনের আওতায় আসবেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন ডিজিটাল ওজন ব্যবহারের পরিবর্তে সনাতন পদ্ধতির দাঁড়িপালা ব্যবহার কি ভাবে সম্ভব? তিনি দৃষ্টিপাতকে আরও জানান ইতিপূর্বে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সাতক্ষীরার দেবহাটা, কালিগঞ্জ সহ অপরাপর সেডে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান। সাতক্ষীরা জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন যারা ডিজিটাল ওজনের পরিবর্তে সনাতন ওজন পদ্ধতি ব্যবহার করছে তারা আইন মানছেন না। সনাতন পদ্ধতির কেজি বাটখারা তথা কাঠের, স্টিলের সুতুলী সম্বলিত ওজন ব্যবহার কেবলমাত্র দেশের ওজন পরিমানের বিপক্ষে তথা আইন বিরোধী কর্মযজ্ঞ নয়, ক্রেতা বিক্রেতা উভয় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, যথাযথ ওজন পাচ্ছে না আবার কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতারনার ও শিকার হচ্ছে। একাধিক চিংড়ী ও সাদা মাছ বিক্রেতা ক্রেতারা জানান ঝুলানো দাঁড়িপালায় মাছ ওজন দিলেই মুহুর্তে ঝুকে যায় প্রকৃত ওজনের ক্ষেত্র নিশ্চিত করার সুযোগ থাকে না। বিক্রেতারা বিরক্ত, বিব্রত, বিড়ম্বনার শিকার হয়, আর এ নিয়ে বিক্রেতা, ক্রেতা আড়তদারের মধ্যে বাকবিতন্ডতা, অসন্তোষ এবং বিশ্বাস অবিশ্বাসের পরিস্থিতির অবতরনা ঘটে। মৎস্য সেড গুলোতে ওজনের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ওজনই শেষ কথা এমন আশা সংশ্লিষ্টদের।