শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অসংক্রামক ব্যাধির বিস্তারে বাড়ছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও গণভোট নয়, শুধু সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন মিয়ানমার সীমান্তের গোলাগুলিতে টেকনাফে শিশু নিহত, আরেক শিশু গুলিবিদ্ধ সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সমস্যা দেখছি না ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক মোছাব্বির হত্যা ব্যবসাকেন্দ্রীক হতে পারে: ডিবি জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারির সাক্ষাৎ নির্বাচনের পর মার্চের শেষে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে বৈধতা পেলেন ৫৮ প্রার্থী, নামঞ্জুর ৭

সাতক্ষীরায় উৎসবের ধানকাটা শেষ পর্যায়ে চলছে মাড়াই, বিক্রি ফলনে ও মূল্যে উভয়ে খুশি কৃষক, কৃষানী

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ৮ মে, ২০২৩

দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ সাতক্ষীরার মাঠে মাঠে ইরি বরো ধান কাটার উৎসব শেষ পর্যায়ে, আনন্দ উচ্ছ¡াসের ধানকাটা চলছে সেই সাথে কৃষক, কৃষানীরা অতি ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে ধান মাড়াই, বিক্রি, সিদ্ধ, শুকনো আর চাল তৈরীর কাজে, পাকা ধানের সোদাগন্ধ, সমৃদ্ধি আর স্বস্তির আহবান মাঠ হতে এখন গ্রামময়। কৃষকরা বেজায় খুশি, আনন্দিত কারন ফলন যেমন বাম্পার হয়েছে অনুরুপ ধানের মুল্য আশানুরুপ পাচ্ছে। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ দূর্বিপাকের দেখা মেলেনি বিধায় উৎপাদন হয়েছে কাঙ্খিত। সাতক্ষীরার কৃষকরা বরাবরই ধান উৎপাদনে তাদের যোগ্যতা রেখেছে, বৃষ্টিতে ভিজে রৌদ্রে পুড়ে গায়ে খেটে, সোনার ধান বর্তমানে বাস্তবতার মুখে, কৃষকরা জানান প্রাকৃতিক দূর্যোগ দুর্বিপাকের দেখা না গেলেও শ্রমিক মূল্য, কীটপতঙ্গ দমন ঔষধ, বীজ, সার সহ পরিচর্যার আনুসঙ্গিক খরচ কম নয়, তবে খুশির বিষয় ধানের দাম ভাল, মোটা জাতের ধান বস্তা প্রতি বিক্রি হচ্ছে পনের/ষোলশত টাকায়, চিকন ধান (আঠাশ) বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার হতে একুশশত টাকায়, সাতক্ষীরার এবার আঠাশ জাতের ধান অপেক্ষা মোটা জাতের ধানের ফলন বেশী, সপ্তাহ পূর্বেও ধানের মূল্য ছিল চড়া, বর্তমান সময় গুলোতে কিছুটা পড়তি বাজার। এবারের ইরি বরো ধান কাটায় কৃষকরা সর্বাধিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে শ্রমিক সংকট সেই সাথে শ্রমিকের উর্দ্ধমূল্য। কৃষকের মাঝে কালবৈশাখি ও শিলাবৃষ্টির আতঙ্ক কাজ করায় শ্রমিক মূল্যের দিকে না তাকিয়ে সকাল বিকাল ধান কাটার কাজ করেছে। জেলার সাত উপজেলাতেই ইরি,বরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে সদর উপজেলা, কলারোয়া, পাটকেলঘাটা ও তালায় চাষ যেমন বেশী হয়েছে উৎপাদনও তেমন বেশী হয়েছে। জেলার দেবহাটা, আশাশুনি, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরে ইরি, বরো ধানের পাশাপাশি চিংড়ী ঘেরে লবনাক্ত সহনীয় বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারনে জেলার বাইরে হতে শ্রমিক এনে ধান কাটা শেষ করেছে কৃষকরা। অতীতের যে কোন সময় অপেক্ষা এবার ফলন বেশী, একাধিক কৃষক জানান কোন কোন এলাকায় বিঘা প্রতি বাইশ হতে পঁচিশ বস্তা পর্যন্ত ধান পেয়েছেন। ধানের মূল্যে খুশি থাকলে এবার বিচুলীর বাজার নিন্মমুখি। আবার অনেক কৃষক চিংড়ী ঘেরে ধান চাষ করায় অধাংশ আকারে ধান কাটায় বিচুলী হতে বঞ্চিত হয়েছে। এক্ষেত্রেই কৃষকের মনবেদনা নেই কারন ধান গাছের মধ্য অংশ যা বিচুলী হওয়ার কথা উক্ত অংশ ঘেরের পানিতে পঁচনশীল হওয়ায় তা মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সাতক্ষীরা বরাবরই কৃষি প্রধান, কপোতাক্ষ এবং ইছামতির মোহনায় ধান চাষ ঐতিহ্য। সা¤প্রতিক বছর গুলোতে প্রাকৃতিক দূর্যোগের তাড়ায় ধান উৎপাদনে মন্থর গতি ছিল। কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে বসেছিল কিন্তু এবারের বাম্পার ফলনে কৃষকরা আশাবাদী হয়েছে। আগামীতে পুরোদমে ইরি, বরো, আমন, বর্ষা কালীন সব মৌসুমে ধান চাষ করবেন আর এমন আশাবাদী উক্ত কৃষক জসিম উদ্দীনের, কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ ও শুকনায় ব্যস্ত, খোরাকির চাল সবার আগে প্রস্তুত করা চাই আর এ ক্ষেত্রে সিদ্ধ ও শুকনো করার ক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ ও কৌশল প্রয়োগের ঘাটতি থাকলে চাল পরিশুদ্ধ হবে না। আত্মীয়তা, ঋনদেনা, পরিশোধ সংসার খরচ, সঞ্চয়ে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ সবই আশার ধানই ভরসা, সাতক্ষীরার কৃষি তথা ধান চাষকে অধিকতর এগিয়ে নিতে, সনাতন পদ্ধতির মোড়ক ভেঙ্গে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ক্ষেত্র নিশ্চিত করনে, কৃষকের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন কৃষি দপ্তর। আর তাই কৃষি দপ্তর যতই কৃষক বান্ধব হবেন ততোই উৎপাদনের ক্ষেত্র মহাক্ষেত্রে পরিনত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com