দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ অবশেষে সাতক্ষীরায় দেখা দিলো স্বস্তির বৃষ্টি সেই সাথে চোখ রাঙালো কাল বৈশাখি। দীর্ঘ তাপদাহ, প্রখর রৌদ্রতাপ, লুহাওয়া আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিবর্ণ, বিপর্যস্থ হয়ে পড়ার পারদ যখন নার্ভিশ্বাসে তখন প্রশান্তির বৃষ্টি জনজীবনে এক ধরনের সুস্থতা আনায়ন করেছে। অপেক্ষার পর অপেক্ষা শেষ মেস অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হতে দীর্ঘায়িত হয়। গতকাল বিকাল চারটার দিকে সাতক্ষীরার আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢাকা পড়ে। মুহুর্তর মধ্যে দমকা হাওয়া প্রশান্তির ঝিলিক আর আম পড়া এবং কুড়ানোর মোক্ষম পরিস্থিতির অবতরনা ঘটে কিন্তু সেই সময় ছিল অতি সংকীর্ণ শুরু হয় বৃষ্টিপাত কখনও থেমে থেমে আবারও মুষলধারে। সাতটা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত এবং বিদ্যুৎ চমকানি, বজ্রপাতের ঘটনাও ছিল উলেখযোগ্য। সদর উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। সাতক্ষীরার চাষীদের আশঙ্কা ছিল বৃষ্টির সাথে শিলা বৃষ্টি যে কারনে পুরোদমে ধান কাটা চলছিল। পক্ষকাল ব্যাপী, জেলার অন্তত আশি ভাগ ধানকাটা শেষ তার উপর খুশির খবর গতকালের বৃষ্টিাতে ও কাল বৈশাখি ঝড়ে ধানের ক্ষতি হইনি। বৃষ্টিপাতে রবি শষ্যের ও কৃষি উৎপাদনে বিশেষ সুবিধার সৃষ্টি করেছে। জেলার শুকিয়ে যাওয়া এবং পানি বিহীন পুকুর ও জলাশয় গুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চিংড়ী ঘেরের চিংড়ী নতুন পানির কল্যানে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কাল বৈশাখির প্রভাবে বৃষ্টিহীনতায় বোটা শুকিয়ে যাওয়া আম গাছ হতে পড়লে ও তার পরিমান আশঙ্কা জন নয়, আম চাষীরা জানান বৃষ্টিপাতের কল্যানে আমের বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বহুগুন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে কোথাও কোথাও গাছ গাছালির শুকনো ডাল ভেঙ্গে পড়েছে। বরাবরের ন্যায় ঝড় বৃষ্টির পর পরই বিদ্যুতের অনুপস্থিতি বিশেষ ভোগান্তী সৃষ্টি করেছে। এ রিপোর্ট লেখার সময় রাত দশটায় বিদ্যুৎ হীনতায় মফস্বলের জনগোষ্ঠী। বাজার ঘাটে বিদ্যুৎ অভাবে ভুতুড়ে পরিবেশের অবতরনা ঘটেছে। অন্যান্য বছর কালবৈশাখি ঝড় এবং বৃষ্টিপাত চৈত্রের মধ্যে দেখা দেয় এবং যে কারনে তাপদাহ সহনীয় পর্যায়ে থাকে এবার তার ব্যতিক্রম হওয়ায় জনজীবন প্রচন্ড তাপদাহের মুখোমুখি হয়। একাধিক আম চাষী জানান কালবৈশাখির প্রভাবে আমের ক্ষতি নেহায়েত কম নয় তবে জেলার কোন কোন এলাকায় ঝড় ব্যাপক আকারে আবার কোন কোন এলাকায় অপেক্ষাকৃত ঝড়ের তান্ডব খুব বেশী ছিল না, তবে বৃষ্টিপাত এর পরিমান ছিল ভালই। সব মিলে সাতক্ষীরা শহর আশপাশের জেলার জনপদ প্রখর তাপদাহের কবল হতে পরিত্রান পেলো। আর তাই নির্দিধায় বলা যায় এই বৃষ্টি শুধুমাত্র প্রশান্তির নয়, উৎপাদন, উপার্জন কর্ম সংস্থান সর্বপরি স্বাভাবিক জীবন যাত্রার জন্য অনন্য অসাধারণ উপযোগী, উপকারি।