দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ সাতক্ষীরার হাজার হাজার বিঘার শত শত চিংড়ী ঘের পানি শুন্যতার কারনে চিংড়ী উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে যে কারনে চিংড়ী ব্যবসায়ী, সহ ঘের ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা চরম হতাশায় ও লোকসানের সম্মুখিন। এখানেই শেষ নয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত চিংড়ী উৎপাদনে ঢস নামায় বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বে। সদর উপজেলা, দেবহাটা ও আশাশুনির মধ্য দিয়ে প্রবাহমান কুলিয়া, পুটিমারী, টিকেট খালের খনন ও পুনঃখননের দীর্ঘসূত্রিতা চিংড়ী শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করছে। চিংড়ী চাষের অন্যতম মাধ্যম লবনাক্ত পানি আর লবনাক্ত পানি উলেখিত খালগুলোর মাধ্যমে চিংড়ী ঘের গুলোতে উত্তোলন করা হয়। গত কয়েকমাস যাবৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খাল খনন ও পুনঃখনন করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো যথাসময়ে খনন কাজ শেষ না হওয়ায় চিংড়ী ঘেরগুলো পানি শুন্যতায় খা খা করছে। বর্তমান সময় চিংড়ী উৎপাদনের মৌসুম, ঘেরগুলোতে প্রথম কিস্তির চিংড়ী বাজার জাত করনের সময় কিন্তু পানি শুন্যতায় হাজার হাজার চিংড়ী ঘের ফেটে চৌচির ছেলেরা খেলাধুলা করছে। সাতক্ষীরার অর্থনীতি দৃশ্যতঃ চিংড়ী নির্ভর অর্থনীতি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অর্থনীতির চাকাকে বিপরীত মুখে ঘূর্ণায়মান করছে। ঘের ব্যবসায়ীদের এমন দূর্যোগ কখনও আসেনি। খাল খনন এবং পুনঃ খননে নিয়ম নীতি মালা কতটুকু মানা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে সে বিষয় নিশ্চয়ই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানবেন। পুনঃখননে খালের দুই পার্শ্বের খনন ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। এক দিকে পানি শুন্যতায় চিংড়ী উৎপাদন শুন্যের কোঠায় অন্যদিকে খনন করা মাটি যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপন্ন করেছে। কুলিয়া খালের সড়ক গুলোতে মাটির স্তুপ এমন ভাবে বিক্ষিপ্ত স্থান করে নিয়েছে যে বসত ঘর হতে বের হতে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছে জন সাধারন। সাতক্ষীরার চিংড়ী শিল্পের বিপর্যয় কেবল মাত্র জেলার অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে তা নয় জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়বে। খাল খনন পুনঃখনন শেষ করা এবং খালগুলোতে পানি প্রবাহই কেবল পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম চিংড়ী শিল্পকে রক্ষা করতে।