মোঃ রফিকুল ইসলাম \ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে পীর-এ কামেল বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মোজাদ্দেদ, অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক, প্রখ্যত সাহিত্যিক, সমাজ সেবক, আত্মাধিক সাধক, সমাজ সংস্কারক, জ্ঞান তাপস, মুসলিম রেনেঁসার অগ্রদুত, মুক্তবুদ্ধি ও অসা¤প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার অধিকারী, মনোচিকিৎসক, ঐতিহাসিক, দার্শনিক সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব গওছে জামান আরেফ বিল্লাহ হজরত শাহ্ ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউলা (রঃ) এঁর হাতে গড়া ‘‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা” ব্রত নিয়ে চলা নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের কর্মকর্তা ও পাক রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নলতা পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে রমজানের ১ম দিন থেকেই দেশের সর্ববৃহৎ ইফতার মাহফিল অব্যহত রয়েছে। সওয়াব হাসিলের জন্য ও বড় ইফতার মাহফিলে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইফতারের উদ্দেশ্যে নলতা শরীফে ছুটে আসেন রোজাদাররা। ধনী, গরিব নির্বিশিষে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে বসে সকলে ইফতার করেন। প্রতিদিন এখানে ৬সহ¯্রাধিক রোজাদার একত্রে বসে ইফতার করছেন বলে মিশনের কর্মকর্তা আলহাজ্জ শিক্ষক আবুল ফজল, হিসাব রক্ষক মোঃ এবাদুল হক ও রমজান আলী জানিয়েছেন। তারা আরো জানান, খাঁন বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) ১৯৩৫ সালে নিজের হাতে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। মিশন প্রতিষ্ঠা করার পর তিনি নিজেই প্রতি বছর রমজান মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন। পরবর্তী সময়ে এই ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়ে যায়। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বিশাল টিনের ছাউনি নির্মাণ করে মনোরম পরিবেশের রমজানে ইফতারের আয়োজন করে আসছে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন। এছাড়াও রোজাদারদের সুষ্ঠভাবে ইফতারী করতে সারিবদ্ধভাবে বসার ব্যবস্থা, ইফতারীর প্লেট ও গøাস দেওয়ার জন্য প্রতিদিন কয়েকশত স্বেচাসেবক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সমাজ সেবক আলহাজ্জ মোঃ আনিছুজ্জামান খোকন জানান, মিশনের রন্ধনশালায় নিজস্ব কারিগরদ্বারা কিছু ইফতারির মেনু প্রস্তত করে ও বাইরে থেকে ক্রয় করে প্রতিদিন মোট ৭ প্রকারের ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। ইফতার সামগ্রীর মধ্যে আছে ১৬ মণ দুধ দিয়ে তৈরী সুজির ফিরনি, ডিম, ছোলা, চিড়া, পাকা কলা, খেঁজুর ও সিঙ্গাড়া। রয়েছে পানি পানের বিশেষ ব্যবস্থা। ইফতার বাবদ প্রতিদিন প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। দেশ বিদেশের ভক্তগণ যৌথভাবে এই ইফতারের অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছে। ইফতারের আগে প্রতিদিন ধর্মপ্রান মুসল্লিরা দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ইফতার শেষে এই প্রাঙ্গনেই মাগরিবের নামাজ আদায় করা হয়। ইফতার করতে আসা রোজাদারদের বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন ও জুতা যাতে চুরি না হয় সেজন্য মিশন কর্তৃপক্ষ নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছে। এভাবেই রমজানের শেষ পর্যন্ত ইফতার মাহফিল অব্যাহত থাকবে বলে মিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।