দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ সাতক্ষীরার আম দেশের গন্ডিপেরিয়ে বিশ্ব বাজারকে স্পর্শ করেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত ভূমিকা পালন করছে। সাতক্ষীরার চাহিদাপুরন পরবর্তি রাজধানী ঢাকা সহ অপরাপর জেলা গুলোতে দীর্ঘদিন যাবত এই জেলার আমের কদর আর চাহিদা সাতক্ষীরাকে অর্থনৈতিক ভাবে যেমন সুদৃঢ় করছে অনুরুপ ভাবে সাতক্ষীরা আলোচিত এবং আলোকিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরার আম চাষে অর্থ বিনিয়োগ করছে। এক কথায় সাতক্ষীরার আম সাতক্ষীরার অর্থনীতিকে যেমন এগিয়ে নিচ্ছে অনুরুপ ভাবে বিপুল সংখ্যক জনমানব আম চাষের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় উলেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় শত শত আম বাগান যেমন নৈসঙ্গিক সৌন্দর্যের বিকিরন ঘটাচ্ছে অনুরুপ ভাবে অর্থ উপার্জনের মোক্ষ্যম সুযোগের দ্বার উন্মোচন করছে। সব মিলে সাতক্ষীরার আম উৎপাদনে সুসময় অতিক্রম করছে। আম উৎপাদন আর অর্থনীতির দুর্বার সুযোগ সৃষ্টির এই সময় গুলোতে এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক আম ভেঙ্গে উক্ত আমে রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রন ঘটিয়ে কৃত্রিম ভাবে পাকিয়ে বাজার জাত করার অপচেষ্টা করছে আবার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা রাসায়নকি পদার্থ মিশানো আর বাজারজাত করছে। প্রশাসনের নজরদারিতে যে সকল অপরিপক্ক আম ধরা পড়েছে তা বিনষ্ট করা হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে আর যে সকল অসাধু ব্যবসায়ী গোপনে অতি গোপনে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে পার পাচ্ছে তাদেরকে চিহিৃত পরবর্তি আইনের আওতায় আনা অতি জরুরী। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। আগামী বার মে হতে হীম সাগর আম ভাঙ্গা যাবে। কিন্তু এর পূর্বেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আম ভাঙ্গছে এবং রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রন করে উক্ত আম বাজারজাত করনের প্রচেষ্টা করছে। রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রনে পাকা আম আসলে পরিপক্ক পাকা আম নয়, আমের রং জ্বল জ্বলে, চকচকে হলেও দৃশ্যতঃ তা ক্যামিক্যালের প্রভাব, উক্ত আম মানবদেহের জন্য কেবল ক্ষতিকর নয় অত্যন্ত ক্ষতিকর। সাতক্ষীরার আম শিল্পের কাঙ্খিত অগ্রযাত্রা যখন দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে এবং সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে আম নির্ভরতায় পৌছাচ্ছে তখন অপরিপক্ক আমে রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রন আম শিল্পের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্র কিনা এটা ভাবনার সময় এসেছে। যে সকল অসাধু ব্যবসায়ীরা এমন অনৈতিক কাজ করেছে ইতিমধ্যে তাদের আম বিনষ্ট করেছে বা জরিমানার অর্থ ও কেউ কেউ গুনছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা এবং কারাবাসের ব্যবস্থা করাও জরুরী। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে অর্থাৎ বার মের পূর্বে যদি কোন চাষি মনে করে করেন যে আবহাওয়া গত কারনে বা আগাম ফলনের জন্য তার আম পরিপক্কতা অর্জন করেছে সে ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনকে অবহিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে এর পরও অপরিপক্ক আম কৃত্রিম ভাবে পাকিয়ে মানবদেহে নানান ধরনের রোগের সৃষ্টি করা দৃশ্যতঃ অমানবিকতাই বুঝায়। দৃষ্টিপাতের তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অপরিপক্ক আম পাকানোর ক্ষেত্রে সত্যিকার প্রকৃত আম চাষীরা জড়িত নয়, একটি মহল, মাধ্যস্বত্ত¡ভোগী এবং কোন কোন অসাধু বহন সংস্থা জড়িত। ব্যবসায়ীদেরকে নানান ভাবে উদ্বুদ্ধ করনের খবর মিথ্যা নয়। একজন আম চাষী এক আম বাগানে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন তিনি তো কোন ভাবেই তার অপরিপক্ক আম ভেঙ্গে সমুদয়মুল ধন হারাতে চায় না। বিধায় অপরিপক্ক আম বাজারজাত করনের ক্ষেত্রে ট্রান্সপোর্ট (বহনসংস্থা) আম মালিক, পাইকারী বা খুচরা ক্রেতা আম বহন ও ভাঙ্গায় নিয়োজিত সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাতক্ষীরার সুুস্বাদু ঐতিহ্যবাহি হীমসাগর, গোবিন্দ ভোগ, ন্যাংড়া, আম রুপালী, চন্দ্র মলিকা সহ আরও বহুবিধ আম এর প্রকৃত স্বাদ হতে দেশবাসি কেন বঞ্চিত হবে? কৃত্রিম ভাবে পাকানো আম কেবল মানবদেহকে ক্ষতিগ্রস্থ করে তা নয় স্বাদ এবং প্রকৃত গুনাগুন বিনষ্ট করে থাকে। সাতক্ষীরা জেলায় শত শত আম বাগানকে নজরদারিতে আনতে হবে। এমনও তথ্য পাওয়া গেছে আম ভাঙ্গার আগেই গাছে ¯েপ্র করা হচ্ছে এবং গাছ তলা হতে ট্রাক ভর্তি হচ্ছে। দুর্গম এলাকা, জনমান শুন্য বাগান গুলোর দিকে বিশেষ নজরদারি করতে হবে। সা¤প্রতিক সময়ে বহনকারী সংস্থা গুলোর কারোর কারোর আম বহনের সুযোগ পাওয়া না পাওয়াকে কেন্দ্র করে অপরিপক্ক আম জব্দ ও নষ্টের ক্ষেত্রে বিশেষ সফলতা এসেছে। সাতক্ষীরার প্রশাসন অপরিপক্ক আমে রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রন এবং বাজারজাত করনের বিরুদ্ধে যথাযত অবস্থান নিয়েছেন, কঠোর অবস্থান জানান দিয়েছেন যা প্রশংসিত হচ্ছে। সাতক্ষীরার আমের সুনাম রক্ষায় মানবদেহকে সুস্থ রাখায় সাতক্ষীরার প্রশাসনের অবস্থান দৃঢ়তার পাশাপাশি আম চাষীদের কে বিশেষ প্রশিক্ষন এবং অপরিপক্ক আম, ক্যামিক্যাল মিশ্রিত আমের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনাও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।