দৃষ্টিপাত রিপোর্ট \ দুঃস্বপ্নের মুহুর্ত গুলোর যবনিকাপাত ঘটেছে তবে ঘূর্ণিঝড় মোখার নিষ্ঠুরতায় লন্ড ভন্ড হয়েছে দেশের প্রবাল দ্বীপ খ্যাত সেন্টমার্টিন। গতকাল বিকাল তিনটার দিকে সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার সেন্টমার্টিন উপকুল অতিক্রম করে এসময় পুরোদ্বীপে নেমে আসে বিভিষিকাময় পরিস্থিতি। ঘন্টায় সর্বোচ্চ একশত সাতচলিশ কিলোমিটার বেগে তীব্র বাতাস তছনছ করে সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত সেন্টমার্টিন কে। দেখতে দেখতে বারশত বসতঘর মাটির সাথে মিশে যায়, উত্তাল সাগরের পানি মুহুর মুহুর আছড়ে পড়ে দ্বীপটিতে। কক্সবাজারের জন্যও ছিল অভিশাপ এই মোখা। দশ হাজার ঘর বাড়ী বিধ্বস্থ হয়েছে। চিরচেনা শান্ত, অবিচল সমুদ্র সৈকত ছিল উদ্বেলিত। অজানা আতঙ্কে আর ঝড়ের সাথে যুদ্ধরত রহিঙ্গা শিবির হয়েছে তছনছ, তেরশত রোহিঙ্গা আশ্রয় ধ্বংস হয়েছে, তারপরও স্বস্তি আর নির্ভরতা যে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার পরিপূর্ণ অংশ সেন্টমার্টিন উপকুলে আঘাত হানেনি, আবহাওয়া দপ্তর বলেছে বৃহৎ অংশ মিয়ানমারে অভ্যন্তরে বইছে এবং কম অংশ কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। সেন্টমার্টিন হয়ে মিয়ানমারের সিওওয়েতে উপর দিয়ে বয়ে যেয়ে মিয়ানমারের উলেখযোগ্য এলাকা শ্মশানে পরিনত করেছে। প্রকৃতির নিষ্ঠুরতাকে প্রতিহত বা প্রতিরোধ করা দুঃস্বাধ্য তবে মোকাবিলা প্রস্তুতি সুদৃঢ়, কার্যকর এবং যথাযথ হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। ঘূর্ণিঝড় মোখার আগমনী বার্তার পর থেকে সরকারি ভাবে মোকাবিলা প্রস্তুতি ছিল প্রশংসিত আর এ কারনে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ক্ষতি দিক দিয়ে পিছিয়ে থেকেছে। আরও একটি বিষয় লক্ষনীয় জনসাধারনের আবহাওয়ার নির্দেশনা মেনে চলাও সতর্কতা অবলম্বন করা দৃশ্যতঃ দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়েছে। সাতক্ষীরা উপকুল ও বারবার প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় বলি হয়। দেশের অন্যান্য উপকুলের ন্রায় সাতক্ষীরাও হিসেবের মধ্যে অবস্থান করে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরার প্রশাসন মোকাবিলা প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করে। বারবার প্রাকৃতিক দূর্যোগের নির্মম শিকার সাতক্ষীরার উপকুলের জনপদে তাই আতঙ্কের শেষ ছিল না। সর্বত্র উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর শঙ্কা ছিল চোখে পড়ার মত। নিকট অতীতের ঘূর্ণিঝড় আর সেই সাথে জ্বলোচ্ছাসের নির্মমতায় ক্ষত বিক্ষত উপকুলীয় জনসাধারনের প্রতিটি মুহুর্ত কেটেছে চরম দুঃস্বপ্ন। সর্বশেষ শুক্রবার আবহাওয়া দপ্তরের খবরে মোংলা বন্দর চার নং সতর্ক সংকেতের বিষয়টি জানানো হলো সাতক্ষীরা উপকুলের অধিবাসিদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও প্রকৃতির বৈচিত্র খেয়াল আর অমোঘ পরিনতির কল্যানে যে কোন সময়ে সাতক্ষীরা উপকুলে ঘুরে আসতে পারে ঘূর্ণিঝড় আর এজন্য আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। প্রতিটি ক্ষন অজানা আতঙ্ক, উপকুলীয় এলাকার অধিবাসিরা জন্ম হতেই প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার সাথে পরিচিত আর এ কারনে আশঙ্কা ছিল কক্সবাজার উপকুলের তান্ডবের প্রভাবে সাতক্ষীরা উপকুলে তার প্রভাববে ঝড় এবং জ্বলোচ্ছ¡াস হওয়াটা স্বাভাবিক। ঝড় অপেক্ষা জ্বলোচ্ছ¡াস অর্থাৎ পানিই সর্বাপেক্ষা আতঙ্ক। জেলা প্রশাসনের তৎপরতা আশ্রয় শিবির গুলোতে অবস্থানের আহবান সহ সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। বিগত দিনের ঘূর্ণিঝড় ও জ্বলোচ্ছ¡াস সাতক্ষীরার উপকুলের বিস্তীর্ন ভেড়িবাধ ধ্বংস হয়েছে বিশেষ করে শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, পাতাখালী, আশাশুনির প্রতাপনগর, হরিশখালী, চাকলা, কুড়িকাহুনিয়া কোলা, শ্রীউলার ভেড়িবাধ লন্ডভন্ড হয়ে নদীর সাথে একাকার হয়েছে। সেই বিবর্ণ, ভয়ানক, অসয্য স্মৃতি উপকুলীয় এলাকার জন মানসে ছিল স্পষ্ট। সাতক্ষীরা উপকুলকে প্রকৃতির উপর ছেড়ে দিলে হবে না, প্রকৃতিকে রোধ করতে হবে আর এজন্য চাই দৃঢ় যুগোপোযোগী, সুউচ্চ ভেড়িবাঁধ।