সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
অসংক্রামক ব্যাধির বিস্তারে বাড়ছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও গণভোট নয়, শুধু সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে ইইউ মিশন মিয়ানমার সীমান্তের গোলাগুলিতে টেকনাফে শিশু নিহত, আরেক শিশু গুলিবিদ্ধ সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সমস্যা দেখছি না ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক মোছাব্বির হত্যা ব্যবসাকেন্দ্রীক হতে পারে: ডিবি জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারির সাক্ষাৎ নির্বাচনের পর মার্চের শেষে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা আপিল শুনানির দ্বিতীয় দিনে বৈধতা পেলেন ৫৮ প্রার্থী, নামঞ্জুর ৭

বিএডিসির পেঁয়াজ বীজে কৃষকের মাথায় হাত

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

এফএনএস : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পেঁয়াজ বীজে রাজবাড়ী ও ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষকের মাথায় হাত। ওই বীজে ফরিদপুরে ২০ শতাংশ জমিতে অঙ্কুর গজালেও রাজবাড়ীতে ৯৫ শতাংশই অঙ্কুরোদগম হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে আসবে না হালি পেঁয়াজ। পূরণ হবে না কাক্সিক্ষত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও। কারণ দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের বড় একটি অংশই রাজবাড়ী ও ফরিদপুর থেকে আসে। উৎপাদন বাড়াতে চলতি বছর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)ওই দুটি জেলায় ৯ হাজার ২০০ চাষীকে পেঁয়াজ বীজ দিয়েছে। কৃষক এবং কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিএডিসির পেঁয়াজ বীজে রাজবাড়ীতে চার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ বীজেই অঙ্কুরোদ্গম হয়নি। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, চাষীদের বিএডিসি বীজে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। তাছাড়া এখনো বীজ বপনের সময় আছে। চাষীরা আবারো বীজ সংগ্রহ করে বপন করতে পারবে। ২০২৪—২৫ অর্থবছরে পাঁচ উপজেলায় চার হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পেঁয়াজের বীজ বিতরণ করা হয়। কৃষি বিভাগ বিএডিসির সরবরাহ করা বীজ কৃষকের মাঝে বিতরণ করে। কিন্তু সরকারিভাবে পাওয়া বীজ সঠিক নিয়মে বপন করা হলেও বীজ গজায়নি। এতে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ বছর রাজবাড়ীতে ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু বীজ না গজানোর কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে আসবে না হালি পেঁয়াজ। পাশাপাশি অন্তত আরো এক মাস উৎপাদন পেছাবে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে ফরিদপুর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ওই জেলায় বছরে প্রায় ছয় লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। চলতি বছর রবি মৌসুমে ৫ হাজার ২০০ কৃষকের মাঝে তাহেরপুরী, বারি—৪ ও বারি—৬ জাতের পেয়াঁজ বীজ বিতরণ করে বিএডিসি। এক কেজি বীজের সঙ্গে ২০ কেজি সারও দেয়া হয়। এর মধ্যে তাহেরপুরী জাতের ৪ হাজার ও বারি জাতের ১ হাজার ২০০ কেজি বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রণোদনা পাওয়া বীজের কোথাও কোথাও শতকরা ৮০ শতাংশ বীজই অঙ্কুরিত হয়নি। কৃষি কর্মকর্তারাও শতকরা ২০—৩০ শতাংশ বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে। প্রণোদনার বীজ গজানোর হার দেখে হতাশ কৃষকরা। আর কৃষকের এমন ক্ষতির দায়ভার নিতে চাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমকর্তারা। এজন্য তারা বিএডিসির কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন। এদিকে এ অবস্থা প্রসঙ্গে স্থানীয় কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি বিভাগের কাজ শুধু প্রণোদনার বীজ বিতরণ করা। বীজ সরবরাহ করে বিএডিসি (বীজ বিপণন) কর্মকর্তারা। পরীক্ষা—নিরীক্ষা করার দায়িত্বও তাদের। বিএডিসি থেকে সংগ্রহ করা বীজ অঙ্কুরোদ্গম না হওয়ার কারণ জানতে মাঠ পরিদর্শন করেছে কৃষি বিভাগ ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন কার্যালয়। তারা কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সুপারিশ করেছে। এদিকে সার্বিক বিষয়ে বিএডিসি রাজবাড়ীর উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক জানান, বীজের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। তবে এতে উৎপাদন ব্যাহত হবে না। বীজতলা নষ্ট হয়েছে, খেত তো নষ্ট হয়নি। কৃষক অন্য জেলা থেকে বীজ কিনে আবার বপন করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com