শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫

এফএনএস আন্তার্জতিক ডেস্ক: লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলা বন্ধের কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত রোববার এই হুঁশিয়ারি দেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। হুতি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এই হামলায় কমপক্ষে ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুজন নারী রয়েছে। আহত হয়েছেন ৯৮ জন। সাধারণ জনগণের হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি পেন্টাগন।
এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে পরিচালিত এখন পর্যন্ত অন্যতম বড় সামরিক অভিযান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান চালাচ্ছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, এই সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল—হুতি টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে জানান, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা চালাবে, ততক্ষণ হুতিরাও লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। তিনি বলেন, “যদি তারা তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রাখে, তবে আমরাও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবো।”
হুতির রাজনৈতিক ব্যুরো যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ওয়াশিংটনের প্রতি এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইতোমধ্যে হুতিদের ১১টি ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোনের কোনোটি ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যানের নিকটবর্তী হয়নি। এছাড়া, ইয়েমেন উপকূলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত হয়েছে, তবে এটি কোনো বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
ফক্স নিউজের ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, “যে মুহূর্তে হুতিরা জানাবে যে তারা জাহাজে হামলা বন্ধ করছে, সেই মুহূর্তেই আমরা তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থামিয়ে দেব। কিন্তু তার আগে, অভিযান চলতেই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আমাদের সম্পদ রক্ষা করা ও জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অংশ। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হুতিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে, এটি এখনই বন্ধ করতে হবে।”
গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ১০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে হুতিরা। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এসব হামলা প্রতিরোধে তাদের সামরিক ব্যয় বাড়ছে।
হুতিরা ঘোষণা দিয়েছে, গাজায় ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলের বাধা প্রত্যাহার করা না হলে তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালাবে।
হুতিদের হামলা বন্ধ করতে ট্রাম্প কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা যদি হামলা বন্ধ না করে, তাহলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।” একইসঙ্গে, ইরানকে সতর্ক করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিলে আমেরিকা ইরানকে পুরোপুরি দায়ী করবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ কমান্ডার হোসেইন সালামি জানান, হুতিরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। তিনি বলেন, “আমরা শত্রুদের সতর্ক করে বলতে চাই, তারা যদি তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করে, তবে আমরা দৃঢ়ভাবে তার ভয়াবহ জবাব দেব।”

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2022 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com